রোমেন রায়হান
মানুষের দেহে দুইশত ছয় হাড়
এদেরকে নিয়ে পারা যাচ্ছে না আর!
যদিও সবাই মিলে গড়ে কঙ্কাল
প্রায়ই ঝগড়া করে ওরা আজকাল!
বাপরে কী ঝগড়া রে! কথার কী ঝাঁজ!
কার বেশি গুরুত্ব, কে কী করে কাজ!
ফিমারটা, মানে হলো উরুর যে হাড়
হাঁক দিয়ে বলে এত সাহসটা কার?
লম্বায় বড় আমি, শক্তিতে তাই
আমি নাই মানে কোনো হাঁটাচলা নাই!
হাড়ের সমাজে আমি একজনই বস!
অকারণ আলোচনা, সময়টা লস!
মেরুদণ্ডের হাড় হেসে বলে, হায়!
নির্বোধ ফিমারের সাথে থাকা দায়!
কী আমার হাঁটাচলা! কী যে চলাচল!
শরীর সোজা না হলে চলে নাকি বল!
আমিই তা সোজা রাখি, কান খুলে শোন!
আমিই সবার সেরা হাড়, মানে বোন!
পাঁজরের হাড়, যার ইংরেজি রিব
বলে ওঠে, সকলেরই খুব চলে জিভ!
ফুটানির কালে কারো থাকে না তো হুঁশ
কে বাঁচায় মহাদামী হার্ট, ফুসফুস?
আমিই ঠেকিয়ে রাখি বাইরের চাপ
তোদের সঙ্গে থাকা স্রেফ অভিশাপ!
খুলির হাড়টা বলে, আমি বাপু স্কাল
না থাকলে দেখা যেত তোদের কী হাল!
সবাইকে যে চালায় ব্রেন নাম তার
তাকে যে রক্ষা করে আমিই সে হাড়!
বুদ্ধিশুদ্ধি যদি থাকে মিনিমাম
বুঝবি হাড়ের মাঝে আমার কী দাম!
নিয়মিত অভিমান, ঝগড়া ও রাগ
দুইশত ছয় হাড় দলে দলে ভাগ!
কেউ হল খুলি, কেউ পাজরের দল
কেউ বলে ফিমারের দলে ভিড়ি চল!
কেউ মেরুদণ্ডের গায় জয়গান
কে আছেন? হাড়দের ভেজাল থামান!