মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

দক্ষিণ ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে ১৮ জন নিহত, ২৪ জন নিখোঁজ

প্রতিনিধি: / ১০ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

বিদেশ : দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে উত্তাল সমুদ্রে গতকাল সোমবার ভোরে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ডের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ম্যানিলা থেকে এএফপি জানায়, ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন-৩’ নামের ফেরিটি স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিপৎসংকেত পাঠায়। এর প্রায় চার ঘণ্টা আগে এটি মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণুপশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জাম্বোয়াঙ্গা সিটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, খালি পায়ে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের কম্বলে মুড়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, মৃতদের মরদেহ বডি ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনতলা বিশিষ্ট এই ফেরিটি প্রায় একই রুটে ডুবে যায়, যেখানে ২০২৩ সালে ‘লেডি মেরি জয়-৩’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছিলেন। উভয় জাহাজই স্থানীয় মালিকানাধীন অ্যালেসন শিপিং লাইন্সের ছিল। ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে ১৮ জন এবং চলমান উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানের মধ্যে ২৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইসাবেলা সিটির এক উদ্ধারকর্মী শেরিল বালোনদো বলেন, উদ্বিগ্ন স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দপ্তরে ১০০টির বেশি ফোনকল এসেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ফোন ধরার সময় আমাদের হৃদয়ে একটা টান লাগে। তাদের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারছি যে এখনো নামের চূড়ান্ত তালিকা নেই, কারণ উদ্ধার ও মরদেহ উদ্ধারের অভিযান চলছে।’ ৪৪ মিটার (১৪৪ ফুট) দীর্ঘ ফেরিটি জাম্বোয়াঙ্গা উপদ্বীপের কাছাকাছি বাসিলান প্রদেশের দ্বীপমালার অংশ বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ডুবে যায়। ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোএমি কায়াবিয়াব টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বেঁচে যাওয়া কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই এলাকার সমুদ্র খুবই উত্তাল ছিল।’ বাসিলানের জরুরি উদ্ধারকর্মী রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেন, বিপুল সংখ্যক আহত ও উদ্ধারপ্রাপ্তকে সামলাতে উদ্ধারকারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একসঙ্গে অনেক রোগী আসছে, অথচ এই মুহূর্তে আমাদের জনবল কম।’ তিনি জানান, অন্তত ১৮ জনকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইন কোস্টগার্ড প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে ভুক্তভোগীদের তুলে এনে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফেসবুকে সরাসরি সমপ্রচারে অন্ধকারে কিছু মানুষকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতেও শোনা যায়। দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ডুবে যাওয়ার কারণ বলা যাচ্ছে না। কারণ নির্ধারণে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত আমাদের মূল মনোযোগ উদ্ধার অভিযানে।’ তিনি জানান, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের জাম্বোয়াঙ্গা ও ইসাবেলা সিটির কোস্টগার্ড স্টেশনগুলোতে নেওয়া হচ্ছে। কোস্টগার্ড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। অ্যালেসন শিপিং লাইন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাহাজে থাকা সবার জন্য আমাদের চিন্তা ও হৃদয় ভারাক্রান্ত।’ তারা আরও জানায়, কোস্টগার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে তারা ‘নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে’। ১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে আন্তঃদ্বীপ ফেরি দুর্ঘটনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশটির সাত হাজারের বেশি দ্বীপের মধ্যে যাতায়াতে অনেক মানুষ সস্তা ও দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত নৌযান ও জাহাজের ওপর নির্ভর করে, যদিও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে লেইটে দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে একটি ফেরি উল্টে গিয়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আর ১৯৮৭ সালে বড়দিনের আগমুহূর্তে ‘ডোনা পাজ’ ফেরির সঙ্গে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এটি শান্তিকালে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।


এই বিভাগের আরো খবর