মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

মারা গেছেন অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি

প্রতিনিধি: / ৯২ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫

প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি মারা গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৮৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় এই অভিনেতা মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সান্তাক্রুজ শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৪১ সালের ১ জানুয়ারি, রাজস্থানের জয়পুরে জন্ম গোবর্ধন আসরানির। ছোটবেলা থেকেই নাটক ও অভিনয়ের প্রতি ছিল প্রবল টান। পড়াশোনা শেষ করে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর সাহিত্যের শিক্ষক কলাভাই ঠাক্কারের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন এবং ১৯৬২ সালে স্বপ্ন নিয়ে বড় পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে মুম্বইয়ে পাড়ি জমান। সে সময়ই ভাগ্য চাকার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক হৃষিকেশ মুখার্জি। এই কিংবদন্তি পরিচালকের পরামর্শেই আসরানি ভর্তি হন পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ। ১৯৬৬ সালে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হন তিনি। তবে প্রথম দিকে সুযোগ খুব একটা আসছিল না। হাম কহাঁ জো রহে হ্যায়, হরে কাঁচ কি চুড়িয়াঁ, উমং ও সত্যকাম-এর মতো ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও আলোচনায় আসেননি। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এফটিআইআই-এ শিক্ষকতা শুরু করেন, যা পরে হয়ে ওঠে তার জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট। গুলজারের সুপারিশে হৃষিকেশ মুখার্জি তাকে ডাকেন তার নতুন ছবি গুড্ডি (১৯৭১)-এর জন্য। জয়া ভাদুড়ীকে নায়িকার চরিত্রে নেওয়ার জন্যই আসরানির সাহায্য করেছিলেন। আসরানিই জয়াকে তার সঙ্গে পরিচয় করান পরিচালকের সঙ্গে। এরপর দুজনেই একই ছবিতে সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম ছবি গুড্ডিতে আসরানির অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। ছবিটি সাফল্যের মুখ দেখে, আর সেই সঙ্গে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠে। বলিউডে এক নতুন মুখের জন্ম যার নাম গোবর্ধন আসরানি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাবার্চি, নমক হারাম, চুপকে চুপকে, অভিমান, চলা মুরারি হিরো বননে, পতি পত্নী ঔর ওহ, খুন পসিনা, আমদাবাদ নো রিকশাওয়ালো, একের পর এক ছবিতে তার অভিনয় মানুষকে হাসিয়েছে, ছুঁয়েছে, মুগ্ধ করেছে। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র নিঃসন্দেহে শোলে-র সেই হাস্যকর স্মরণীয় জেলারের ভূমিকাটি। সংলাপ, মুখভঙ্গি আর টাইমিং, সব মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অবিস্মরণীয় চরিত্র, যা আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করেছেন ছয়টি চলচ্চিত্র। শেষবার তাকে পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালের কমেডি ছবি নন স্টপ ধামাল-এ। তার সাফল্যের পিছনে ছিলেন- স্ত্রী, অভিনেত্রী মঞ্জু আসরানি। গত সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এক যুগের হাসির নায়ক, বলিউডের প্রিয় মুখ আসরানির প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগৎ হারাল এক অনন্য প্রতিভাকে।


এই বিভাগের আরো খবর