সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের পেট্রোল পাম্প

প্রতিনিধি: / ৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তেল কোম্পানিগুলো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করতে গিয়ে কর্মচারীরাও শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন।

সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন এবং অন্য একটি পাম্পে প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত চাপের কারণে অল্প সময়েই সব শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিকে তারা ‘লুটতরাজের মতো’ বলে উল্লেখ করেছে।

তারা অভিযোগ করে, কিছু মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে গিয়ে জোর করে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় হামলা চালিয়ে পুরো মজুত শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না বলে তারা সতর্ক করেছে।

 

এছাড়া ঈদের আগের দিন অনেক পাম্পে জরুরি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ও জোরদার উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


এই বিভাগের আরো খবর