সর্বশেষ :
বাগেরহাট-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিপনকে হত্যার হুমকী বাগেরহাটের ৪টি আসনে ৪০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র সব কেন্দ্রে সিসিটিভি, বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত ওবামা-মিশেলকে বানরের সঙ্গে তুলনা করা ট্রাম্পের ভিডিও সরালো হোয়াইট হাউস পাকিস্তানে শিয়া মসজিদের বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩১, আহত ১৬৯ বোয়িং থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ কেনার জন্য তৈরি ভারত চীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সংলাপ চালু রাখার ইঙ্গিত ইরানের প্রধান বিচারপতির ডাকে সোমবার ফুলকোর্ট সভা কর্মবিরতিতে বন্ধ কার্যক্রম, সচল থাকার দাবি বন্দর চেয়ারম্যানের
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

চীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিনিধি: / ৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিদেশ : চীন ২০২০ সালে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনিভায় আয়োজিত বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ওয়াশিংটন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে একটি নতুন ও বিস্তৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বমঞ্চে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চীনের এই গোপন তৎপরতা পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো দাবি করেন যে, চীন পরিকল্পিতভাবে শত শত টন বিস্ফোরণ ক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল যার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ২২ জুন চীন এমন একটি পরীক্ষা চালায় যা সিসমিক মনিটরিং বা ভূ-কম্পন মাপক যন্ত্রে ধরা না পড়ার জন্য ‘ডিকাপলিং’ নামক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে গোপন করা হয়েছিল। ডিন্যানোর মতে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি জানত যে এই পরীক্ষাগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন, তাই তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। চীনের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগগুলোকে সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার না করলেও বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, চীন সবসময় পারমাণবিক বিষয়ে বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল আচরণ করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অনবরত চীনের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে বাড়িয়ে বলছে। শেন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা কথা’ হিসেবে অভিহিত করে এর ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন কোনো ত্রিপক্ষীয় পারমাণবিক আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তিনি ওয়াশিংটনকে স্নায়ুযুদ্ধ যুগের মানসিকতা ত্যাগ করারও আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের প্রধান দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়ানোর সুযোগ পেল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক অনলাইন পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাশিয়া ও চীন যদি তাদের পারমাণবিক মজুত বাড়াতে থাকে তবে যুক্তরাষ্ট্র চুপচাপ বসে থাকবে না এবং নিজেদের অস্ত্রাগার আরও আধুনিক করবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, ২০২৬ সালে এসে কেবল একটি দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে এগিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়, বরং একাধিক পারমাণবিক শক্তির উপস্থিতিতে একটি বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স


এই বিভাগের আরো খবর