বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা ছিল একটি ভালো শুরু এবং সংলাপ আগামীদিনে আরও চলবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গত শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা শেষে এ মন্তব্য করেছেন আরাঘচি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সমপ্রতি ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন আরাঘচি, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনার পর আরাঘচি বলেন, যেকোনও সংলাপের জন্য হুমকি ও চাপ থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইরান কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই আলোচনা করে; অন্য কোনও বিষয় আলোচনার বিষয় নয়। তবে দুই পক্ষই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহ দেখালেও যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার পরিধি বাড়াতে। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোতে সমর্থন এবং দেশের ভেতরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চায়। ইরানপন্থী এক কূটনীতিকের মতে, আলোচনায় তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিজস্ব অধিকার বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে, তেহরান ইউরেনিয়ামের মাত্রা ও বিশুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক কনসোর্টিয়ামের মতো বিকল্প সমাধানের জন্য নমনীয়তা দেখিয়েছে। বিনিময়ে ইরান দ্রুত ও কার্যকর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিশেষ করে ব্যাংকিং ও তেল খাতে শিথিল এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি জানিয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি আলোচনা খুবই গুরুতর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই ফলাফল পর্যালোচনা করতে হবে। তবে শুক্রবারে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠান ও ১৪টি জাহাজে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রয়টার্সের সংবাদে আরও উল্লেখ্য করা হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পুরো তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। যদিও ইরান শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষের, তবু উভয় পক্ষের সামরিক হুমকি পরিস্থিতিকে এখনও উত্তপ্ত করে রেখেছে।