বিদেশ : নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে কোয়ারা অঙ্গরাজ্যের দুটি গ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। চলতি বছরে এটি দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী সশস্ত্র হামলা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। জিহাদিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর লাগাতার সহিংসতায় আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কোয়ারা অঙ্গরাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামে মঙ্গলবার চালানো এ হামলায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২ জনে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘লাকুরাওয়া’ এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। কাইয়ামা অঞ্চলের রাজনীতিক সাইদু বাবা আহমেদ রয়টার্সকে জানান, বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের জড়ো করে তাদের হাত পেছনে বেঁধে নির্বিচারে হত্যা করে। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে সেনা সদস্যদের সঙ্গে গ্রামেই রয়েছি। মৃতদেহ শনাক্তের পাশাপাশি এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ’ স্থানীয় সূত্র জানায়, বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আশপাশের জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে পালিয়ে গেছে। এখনো গোত্রের রাজাসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয়রা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা ছিল জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী। তারা নিয়মিত গ্রামে এসে ধর্মীয় বয়ান দিত এবং স্থানীয়দের নাইজেরিয়ান রাষ্ট্রের আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়া আইন গ্রহণের আহ্বান জানাত। মঙ্গলবার এক ধর্মীয় সমাবেশ চলাকালে গ্রামবাসীরা বিরোধিতা করলে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের হুমকিমূলক চিঠি পাঠিয়ে আসছিল। কোয়ারা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আবদুলরহমান আবদুলরাজ্জাক এ হামলাকে ‘চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে হতাশ সন্ত্রাসী চক্রের কাপুরুষোচিত প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। কোয়ারা অঙ্গরাজ্য নাইজার অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা। সামপ্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। নাইজেরিয়ান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ২০২৩ সালে প্রতিবেশী নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে লাকুরাওয়া গোষ্ঠী সীমান্ত এলাকায় আরো সক্রিয় হয়েছে। এদিকে একই দিনে উত্তর-পশ্চিমের কাতসিনা অঙ্গরাজ্যের ফাসকারি এলাকার ডোমা গ্রামেও বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়। পুলিশ গত বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা ও সেনাঘাঁটিতে পৃথক হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছিল। সামপ্রতিক পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেও নাইজেরিয়ান সরকার ও স্বাধীন পর্যালোচকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, সহিংসতায় খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় সমপ্রদায়ই নির্বিচারে প্রাণ হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ডের প্রধান জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসন মঙ্গলবার জানান, নাইজেরিয়ায় একটি ছোট মার্কিন সামরিক দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।