এলপি গ্যাসের ওপর কর কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে স্থানীয় বাজারে এলপি গ্যাসের দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে থাকা ভ্যাট ও আগাম করের চাপ কমিয়ে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হবে। তার ভাষায়, এতে এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক করভার কিছুটা কমবে এবং এর প্রভাব বাজারদরের ওপর পড়বে।
তিনি আরও বলেন, কর কাঠামোর এই সমন্বয়ের ফলে স্থানীয় বাজারে এলপি গ্যাসের দাম ধীরে ধীরে কমে আসার সুযোগ তৈরি হবে। ভোক্তারা এর সুফল পাবেন বলে আশা করছে সরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার কারণে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়ে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি খাতের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্যোক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই কর কাঠামোয় এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় কিছুটা কমবে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।