Dhaka ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে সি-ট্রাক উদ্বোধন ঝড়-মৌসুমের আগেই উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালুর ঘোষণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৯ Time View

নজরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক:  কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে সি-ট্রাক চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিপ্রেডিয়ার জেনারেল (অবসর) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে ঝড-বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই এই নৌরুটে উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। রবিবার (২৫ জানুয়ারী-২৬) দুপুরে মগনামা- বড়ঘোপ ঘাটে ফিতা কেটে সি-ট্রাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো.সলিম উল্লাহসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিবুল আলম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (ডুয়েট)র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নাল আবেদীন, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আপাতত ফেরি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুতই সেই জটিলতা কাটিয়ে উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত সি-ট্রাক চলবে এবং তারপর উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চলার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, সি-ট্রাক চালুর মাধ্যমে দ্বীপাঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (ডুয়েট)র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফসর ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, “উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের উন্নয়নে নিরাপদ নৌ যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবদিয়া-পেকয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালু হওয়া তা টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি সফল উদাহরণ হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে।”

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান বলেন, “কুতুবদিয়া দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বৈষম্যের শিকার। সি-ট্রাক চালু হওয়ায় দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এটি কুতুবদিয়ার জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আজকের দিনটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও আনন্দের। তবে শীগ্রই উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস সংযুক্ত করার দাবি জানান তিনি।”

মগনামা ঘাটে উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সি-ট্রাকে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বড়ঘোপ ঘাটে যান। এবং সেখানে ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সি-ট্রাক চলাচলের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। বড়ঘোপ ঘাটে স্থাপন করা নাম ফলকের উদ্বোধন করেন। এসময় মগনামা ও বড়ঘোপ উভয় ঘাটের লক্কর-ঝক্কর,জরাজীর্ণ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

সি-ট্রাক উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয় যাত্রীদের মাঝেও দেখা গেছে স্বস্তি, আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কুতুবদিয়ার বাসিন্দা এক যাত্রী মো. আব্দুল করিম বলেন,
“বর্ষাকালে ছোট বোটে পার হতে ভয় লাগে। এখন সি-ট্রাক চালু হওয়া পরিবার নিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে।”

আরেক যাত্রী রাশেদা বেগম বলেন,“রোগী নিয়ে মূল ভূখন্ডে যেতে অনেক কষ্ট হয়। এখন সমও বাঁচবে, ঝুঁকিও কমবে।”

এদিকে সি-ট্রাক চালাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর প্রকৗশল বিভাগ উভয়ঘাটে এমএস স্পাড স্থাপন, পল্টুন নির্মাণ, কাঠের সিঁড়ি সরবরাহ করলেও পল্টনের চারপাশে রেলিং এর ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সি-ট্রাক চালু হওয়ায় কুতুবদিয়া ও পেকুয়া অঞ্চলের যোগাযোগ, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

 ৮ শিক্ষকেই চলছে পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ; ঝুঁকিতে পুরো প্রজন্ম

কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে সি-ট্রাক উদ্বোধন ঝড়-মৌসুমের আগেই উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালুর ঘোষণা

Update Time : ১২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নজরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক:  কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে সি-ট্রাক চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিপ্রেডিয়ার জেনারেল (অবসর) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে ঝড-বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই এই নৌরুটে উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। রবিবার (২৫ জানুয়ারী-২৬) দুপুরে মগনামা- বড়ঘোপ ঘাটে ফিতা কেটে সি-ট্রাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো.সলিম উল্লাহসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিবুল আলম, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (ডুয়েট)র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নাল আবেদীন, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আপাতত ফেরি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুতই সেই জটিলতা কাটিয়ে উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত সি-ট্রাক চলবে এবং তারপর উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস চলার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, সি-ট্রাক চালুর মাধ্যমে দ্বীপাঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (ডুয়েট)র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফসর ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, “উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের উন্নয়নে নিরাপদ নৌ যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবদিয়া-পেকয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালু হওয়া তা টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি সফল উদাহরণ হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে।”

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান বলেন, “কুতুবদিয়া দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বৈষম্যের শিকার। সি-ট্রাক চালু হওয়ায় দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এটি কুতুবদিয়ার জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আজকের দিনটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও আনন্দের। তবে শীগ্রই উপকূলীয় ফেরি সার্ভিস সংযুক্ত করার দাবি জানান তিনি।”

মগনামা ঘাটে উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সি-ট্রাকে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বড়ঘোপ ঘাটে যান। এবং সেখানে ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সি-ট্রাক চলাচলের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। বড়ঘোপ ঘাটে স্থাপন করা নাম ফলকের উদ্বোধন করেন। এসময় মগনামা ও বড়ঘোপ উভয় ঘাটের লক্কর-ঝক্কর,জরাজীর্ণ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

সি-ট্রাক উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয় যাত্রীদের মাঝেও দেখা গেছে স্বস্তি, আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। কুতুবদিয়ার বাসিন্দা এক যাত্রী মো. আব্দুল করিম বলেন,
“বর্ষাকালে ছোট বোটে পার হতে ভয় লাগে। এখন সি-ট্রাক চালু হওয়া পরিবার নিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে।”

আরেক যাত্রী রাশেদা বেগম বলেন,“রোগী নিয়ে মূল ভূখন্ডে যেতে অনেক কষ্ট হয়। এখন সমও বাঁচবে, ঝুঁকিও কমবে।”

এদিকে সি-ট্রাক চালাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর প্রকৗশল বিভাগ উভয়ঘাটে এমএস স্পাড স্থাপন, পল্টুন নির্মাণ, কাঠের সিঁড়ি সরবরাহ করলেও পল্টনের চারপাশে রেলিং এর ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সি-ট্রাক চালু হওয়ায় কুতুবদিয়া ও পেকুয়া অঞ্চলের যোগাযোগ, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।