Dhaka ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: সাগরে সন্তান প্রসব, দ্বীপবাসীর নিরাপত্তা এখনই প্রয়োজন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৭২ Time View

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্স থেকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য যাত্রা করা এক গর্ভবতী মা, মাঝপথে স্পিডবোটে
প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। কাকতালীয়ভাবে ওই স্পিডবোটে ছিলেন
ডা. সৈকত বড়ুয়া, যিনি সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা প্রদান করে বোটেই
একটি ফুটফুটে শিশুর জন্ম দেন।
এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে। ডা. সৈকত বড়ুয়া
জানান, গর্ভবতী মা ‘হাইরিক্স প্রেগন্যান্সি’ সমস্যায় ভুগছিলেন
এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল। বোটে ওঠার পরই
তিনি প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন এবং ডা. সৈকত জরুরি চিকিৎসা
শুরু করেন। সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়
এবং মা-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো
হয়।
এটি একটি ঘটনা হলেও, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা
নিশ্চিত করার বড় একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ডা. সৈকত
বড়ুয়া বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে এখানে প্রশিক্ষিত
প্যারামেডিক টিম এবং ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। দ্বীপবাসীর
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
একদিকে, কুতুবদিয়ার মানুষের জীবনযাত্রা, অপরদিকে সরকারিভাবে
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই অপ্রতুল। আধুনিক চিকিৎসা

ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বে মানুষের জন্য সহজলভ্য হলেও, কুতুবদিয়া এবং
এর আশেপাশের দ্বীপ অঞ্চলে আজও সে সুবিধা পৌঁছায়নি। এম্বুলেন্স
এবং ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স নামেই থাকলেও, অনেক সময় তা কাজে আসে
না, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় তরুণরা সরকারের প্রতি একাধিক বার দাবি
জানিয়েছে, যেন তারা তাদের জীবনমান উন্নত করতে সুষ্ঠু স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ পান। কুতুবদিয়ার মতো
অঞ্চলগুলোতে, যেখানে উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ চিকিৎসা সেবা
গ্রহণও কষ্টকর, সেখানে একটি কার্যকর ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা
ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি।

এক যুবক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা সরকারের কাছে
সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চাই, যেন আর কোনো গর্ভবতী মা কিংবা
অন্য কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসার জন্য না বের হয়। এই দ্বীপের
মানুষও রাষ্ট্রীয় সেবা পাওয়ার অধিকারী।”
এ বিষয়ে কুতুবদিয়ার ২ লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, ‘আমরা
কেন রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকব? সরকারের উচিত আমাদের
এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।’
তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিক
আকবর খান বলেন, “এখনই একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের কাছে
দাবি জানানোর সময় এসেছে। আসুন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি
নিরাপদ ও আধুনিক কুতুবদিয়া গড়ে তুলি।”
কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আ,ন,ম শহীদ উদ্দিন ছোটন বলেন,
কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপ অঞ্চলের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা, ওয়াটার
অ্যাম্বুলেন্স, সড়কপথ উন্নয়ন এবং চিকিৎসা প্রশিক্ষিত কর্মী
নিয়োগ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। স্থানীয় জনগণের একতাবদ্ধ

আন্দোলন এই পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশা
করছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কুতুবদিয়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: সাগরে সন্তান প্রসব, দ্বীপবাসীর নিরাপত্তা এখনই প্রয়োজন

Update Time : ১১:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্স থেকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য যাত্রা করা এক গর্ভবতী মা, মাঝপথে স্পিডবোটে
প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। কাকতালীয়ভাবে ওই স্পিডবোটে ছিলেন
ডা. সৈকত বড়ুয়া, যিনি সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা প্রদান করে বোটেই
একটি ফুটফুটে শিশুর জন্ম দেন।
এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে। ডা. সৈকত বড়ুয়া
জানান, গর্ভবতী মা ‘হাইরিক্স প্রেগন্যান্সি’ সমস্যায় ভুগছিলেন
এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল। বোটে ওঠার পরই
তিনি প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন এবং ডা. সৈকত জরুরি চিকিৎসা
শুরু করেন। সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়
এবং মা-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো
হয়।
এটি একটি ঘটনা হলেও, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা
নিশ্চিত করার বড় একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ডা. সৈকত
বড়ুয়া বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে এখানে প্রশিক্ষিত
প্যারামেডিক টিম এবং ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন। দ্বীপবাসীর
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
একদিকে, কুতুবদিয়ার মানুষের জীবনযাত্রা, অপরদিকে সরকারিভাবে
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই অপ্রতুল। আধুনিক চিকিৎসা

ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বে মানুষের জন্য সহজলভ্য হলেও, কুতুবদিয়া এবং
এর আশেপাশের দ্বীপ অঞ্চলে আজও সে সুবিধা পৌঁছায়নি। এম্বুলেন্স
এবং ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স নামেই থাকলেও, অনেক সময় তা কাজে আসে
না, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় তরুণরা সরকারের প্রতি একাধিক বার দাবি
জানিয়েছে, যেন তারা তাদের জীবনমান উন্নত করতে সুষ্ঠু স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ পান। কুতুবদিয়ার মতো
অঞ্চলগুলোতে, যেখানে উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ চিকিৎসা সেবা
গ্রহণও কষ্টকর, সেখানে একটি কার্যকর ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা
ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি।

এক যুবক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা সরকারের কাছে
সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চাই, যেন আর কোনো গর্ভবতী মা কিংবা
অন্য কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসার জন্য না বের হয়। এই দ্বীপের
মানুষও রাষ্ট্রীয় সেবা পাওয়ার অধিকারী।”
এ বিষয়ে কুতুবদিয়ার ২ লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, ‘আমরা
কেন রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকব? সরকারের উচিত আমাদের
এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।’
তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিক
আকবর খান বলেন, “এখনই একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের কাছে
দাবি জানানোর সময় এসেছে। আসুন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি
নিরাপদ ও আধুনিক কুতুবদিয়া গড়ে তুলি।”
কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আ,ন,ম শহীদ উদ্দিন ছোটন বলেন,
কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপ অঞ্চলের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা, ওয়াটার
অ্যাম্বুলেন্স, সড়কপথ উন্নয়ন এবং চিকিৎসা প্রশিক্ষিত কর্মী
নিয়োগ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। স্থানীয় জনগণের একতাবদ্ধ

আন্দোলন এই পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশা
করছেন।