আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর চলাকালে এ তথ্য জানানো হলো। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙ্ েদেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি। একই পোস্টে তিনি প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথাও জানান। বাঘায়ি বলেন, ‘পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা ও সদিচ্ছাপূর্ণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ এর আগে সিএনএনের একটি প্রতিবেদন খণ্ডন করে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসলামাবাদ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আরাগচি। ইসলামাবাদ সফরের পর তার ওমানের রাজধানী মাসকাট এবং রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফরেরও কথা রয়েছে। সিএনএন আরও দাবি করেছিল, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্যই তাদের পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তবে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনাই এজেন্ডায় নেই। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ সফর করছেন না।’ তাসনিম উল্লেখ করে, আরাগচি নিজেও আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, এসব সফরের উদ্দেশ্য হলো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ‘দ্বিপাক্ষিক’ সম্পর্কোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও দুই পক্ষ সে যাত্রায় সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ খুলে দিলেও অবরোধের ঘোষণার পর ফের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় ইরান। মার্কিন নৌ-অবরোধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটি কোনও আলোচনায় অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
Reporter Name 




















