ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা ): খুলনার পাইকগাছায় রশি টানাটানির পর শেষ পর্যন্ত শান্তা’র স্লুইস গেট সংলগ্ন কুমখালীর ভাঙন কবলিত রিং বাঁধটি পুনঃরায় মেরামত করা হয়েছে। গত দু’দিন ধরে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস ছলাম কেরু ও বাজার বনিক সমিতির সভাপতি অবঃ সরকারি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের অর্থায়নে ও পাউবোসহ স্থানীয়দের সহয়তায় ২৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্ত ভাঙনের বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অবঃ অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সানা, সাবেক ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দীন, রুহুল গাজীসহ স্থানীয়রা।
জানাগেছে, গত ঈদুল ফিতরের দিন গড়ইখালীর শান্তার স্লুইস গেটের বাড়তি বা ফাপতি পানির চাপে কুমখালীস্থ মিষ্টি পানি সংরক্ষণের বাঁধ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় ঘোষখালী ( বদ্ধ) নদীতে লবন পানি ঢুকতে শুরু হয়। এতে গবাদি পশুসহ এলাকায় চলতি মৌসুমের তরমুজ,ধান ও নানা রকমের উঠতি ফসল হুমকির মুখে পড়ে। ঐ সময় তাৎক্ষণিক ভাবে গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদ রিং বাঁধটি মেরামত করে দেয়।
কিন্তু এক পক্ষের অভিযোগ মাছের লোভে কে বা করা রাতের আধারে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে ছিদ্র বা ফুটো করে দিলে বাঁধটি আবারো ভেঙে যায়।
আবার অন্যপক্ষ বলছেন, স্লুইস গেটের উপছেপড়া পানির চাপে যেন-তেন ভাবে সংস্কার করা বাঁধ ভেঙে যায়।
তবে, এ সময়ে লবন জল উঠা-নামা করায় বহুদুর পর্যন্ত লবন জল প্রবেশ করেছে।
এ মুহুর্তে কৃষকরা পড়েছেন মারাত্মক সেচ সংকটে। ঘোষখালী নদীর আশে -পাশের গ্রামের কৃষকরা পানি সংকটে পড়ে উঠতি ফসল তরমুজ ক্ষেত, ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কায় ভুগছেন।
এ প্রসঙ্গে কুমখালীর বাসিন্দা শান্ত কুমার মন্ডল জানান, সুযোগ থাকা স্বত্বেও দ্বিতীয় বার বাঁধটি ভেঙে গেলে এলাকার এমপি থেকে শুরু করে ইউএনও,কৃষি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রত্যেকের সহযোগিতা চেয়েছি,কিন্তু আশা ব্যাঞ্জক সাড়া পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ভোলানাথ মন্ডল বলেন, শুধু মেম্বার -চেয়ারম্যানের দোষারোপ করে লাভ নেই, লবন পানি ঠেকাতে বাঁধ মেরামত করতে কৃষকরা বা আমরা কি ভুমিকা রেখেছি।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বিশ্বাস জানান, কৃষি ফসল উৎপাদনে মানুষের দাবির পেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক সময় বাঁধটি দেয়া হয়েছিল।
কিন্ত চলতি মৌসুমে বাঁধটি ভাঙনের ১ মাস হলেও দায়িত্বশীলরা যথাযত ভূমিকা রাখতে পারেনি।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস ছালাম কেরু বলেন এক শ্রেনীর মানুষ সমালোচনায় ব্যস্ত কিন্তু কাজের বেলায় ভূমিকা নেয় না । তিনি জানান, ফসলেমিষ্টি পানির জন্য দ্বিতীয় বার বাঁধটি মেরামত করা হলো এতে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।