সর্বশেষ :
ফকিরহাটে স্ত্রীর শরীরে গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ফকিরহাটে তেল নিতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় বাইক চালক নিহত মোরেলগঞ্জে ঘের দখল নিয়ে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন হুথিদের হামলার চোটে সব কর্মীকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নিলো ইসরায়েল চাঁদের পথে আর্টেমিস-২: অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন সমস্যায় নভোচারীরা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশল: বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নৌ চলাচল ব্যবস্থা ইরানের সমর্থনে ইরাকে লাখো মানুষের সমাবেশ ট্রাম্পের আলটিমেটামের পর ইসরায়েল-কুয়েতে হামলা চালাল ইরান ট্রাম্পের মৃত্যু হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাল কে ধরবেন? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

চাঁদের পথে আর্টেমিস-২: অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন সমস্যায় নভোচারীরা

প্রতিনিধি: / ৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা আর্টেমিস-২ অভিযান ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে, মিশনটিতে থাকা চার মহাকাশচারীর একটি অস্বস্তিকর সমস্যার মুখে পড়ার তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ভোরে মিশনের তৃতীয় দিন ১৬.৫ ফুট (৫ মিটার) প্রশস্ত ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। মিশনের ফ্লাইট ডিরেক্টর জাড ফ্রিলিং জানান, সমস্যাটি ছিল টয়লেট থেকে বর্জ্য বের করার প্রক্রিয়ায়। ধারণা করা হয়, ভেন্ট লাইনে জমে থাকা প্রস্রাব জমে বরফ হয়ে যাওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়। সে সময় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা মহাকাশচারী নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন ঘুমিয়ে ছিলেন। এদিকে মিশন কন্ট্রোলাররা সমস্যার সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে ক্যাপসুলটিকে সূর্যের দিকে ঘুরিয়ে বরফ জমে থাকা লাইন গরম করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এতে আংশিকভাবে জট খুলে যায় এবং কিছু প্রস্রাব মহাশূন্যে নির্গত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে মিশন কন্ট্রোল জানায়, টয়লেট আংশিকভাবে সচল হলেও তা কেবল কঠিন বর্জ্যরে জন্য ব্যবহারযোগ্য। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে মধ্যরাতে ঘোষণা আসে- টয়লেট সম্পূর্ণ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। এ ঘোষণায় মহাকাশচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমস্যার সমাধানের পর মিশন কন্ট্রোলের ক্যাপসুল কমিউনিকেটর জ্যাকি মাহাফি নভোচারীদের জানালেন, ‘আপনারা এখন সব ধরনের টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন।’ এরপর কচ উত্তর দেন, ‘ধন্যবাদ!’ এর আগে উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পরই টয়লেটের পাম্প কাজ না করার সমস্যা দেখা দেয়। পরে জানা যায়, পাম্প চালু করতে প্রয়োজনীয় পানি যথেষ্ট পরিমাণে দেয়া হয়নি। পানি যোগ করার পর সেটি স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। টয়লেট বিকল হয়ে পড়ায় মহাকাশচারীদের সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়, যা অ্যাপোলো যুগের মতোই ব্যাগভিত্তিক পদ্ধতি। ওই সময় মহাকাশচারীদের জন্য কোনো টয়লেট ছিল না এবং তারা ব্যাগ ব্যবহার করতেন। ১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো-১০ মিশনে এমনকি ক্যাপসুলের ভেতরে বর্জ্য ভেসে বেড়ানোর ঘটনাও ঘটেছিল, যা নিয়ে মহাকাশচারীরা বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। নাসার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় ব্যবহৃত ব্যাগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। বর্তমান ওরিয়ন ক্যাপসুলে ব্যবহৃত ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রযুক্তি দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল। এটি মূলত প্রস্রাব মহাশূন্যে নির্গত করে এবং কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে। তবে অতীতেও মহাকাশযানে টয়লেট সমস্যার নজির রয়েছে। স্পেসএঙ্রে ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলেও ২০২১ সালে প্রস্রাব সংরক্ষণ টিউব খুলে গিয়ে লিকের সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে মহাকাশচারীদের বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়েছিল। নাসার বর্তমান প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও ২০২২ সালে ক্রু ড্রাগনে করে ‘ইনস্পিরেশন৪’ নামে একটি তিন দিনের ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। সেই মহাকাশযাত্রার সময় তাকে মহাকাশযানের ভেতরের একটি টয়লেটের সমস্যার সমাধান করতে হয়েছিল। তবে, আইজ্যাকম্যান সেই সময় সিএনএনকে বলেছিলেন, সমস্যাটি কেবিনের চারপাশে ভেসে বেড়ানো বর্জ্য সম্পর্কিত ছিল না। কয়েক দশকের টয়লেট উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকেই ওরিয়ন মহাকাশযানের সেই সিস্টেমটি তৈরি হয়েছে, যা আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা ব্যবহার করছেন। প্রযুক্তিটি যাচাই করার জন্য নাসা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও (যা পৃথিবী থেকে মাত্র কয়েকশ মাইল উপরে প্রদক্ষিণ করে) একই ধরনের একটি সিস্টেম স্থাপন করেছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির অধীনে কলিন্স অ্যারোস্পেস ওরিয়নের জন্য ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ইউডব্লিউএমএস নামে পরিচিত প্রযুক্তিটি ডিজাইন কার্যকর হবে। এবং এই সিস্টেমটি স্পেস শাটল প্রোগ্রামের কয়েক দশকের টয়লেট প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উভয় সিস্টেমেই, মূত্র ক্যাপসুলের বাইরে নির্গত হয়, আর কঠিন বর্জ্য সংকুচিত করে ক্রুদের সাথে পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হয়। যখন এটি কাজ করে, তখন মহাকাশের টয়লেটের কিছু সুবিধাও থাকতে পারে। নাসার সাবেক মহাকাশচারী মাইক ম্যাসিমিনো বলেন, ‘আমি পৃথিবীর টয়লেটকে খুব মিস করি, কারণ মহাকাশে এটি বেশ জটিল এবং আপনাকে সতর্ক থাকতে হয় ও সহকর্মীদের সম্মান করতে হয় যাতে আপনি কোনো নোংরা না করেন। আর সবসময় নিজের ব্যবহৃত জিনিস পরিষ্কার করতে হয়, কারণ আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে অন্য কেউ অসুস্থ হোক।’


এই বিভাগের আরো খবর