নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া | ২৭ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক ব্যতিক্রমী মেজবান আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর পর কুলখানি বা মেজবানের আয়োজন করা হলেও, এবার জীবিত অবস্থাতেই নিজের মেজবান দেখে গেলেন শতবর্ষী প্রবীণ ব্যক্তি মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ (প্রকাশ নূর আয়েশার আব্বা)।
উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুড়ার পাড়ার বাসিন্দা এই প্রবীণ ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জহিরুল্লাহর ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যুর পর বড় পরিসরে একটি মেজবানের আয়োজন করা হবে। বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যান হালিম সিকদার তাকে আশ্বস্ত করেন–মৃত্যুর পর নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই এই আয়োজন করা হবে, যাতে তিনি নিজ চোখে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা অনুভব করতে পারেন।
চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানে প্রায় ৭ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল হকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই উদ্যোগকে মানবিক ও ব্যতিক্রমী হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, একজন মানুষের শেষ ইচ্ছা জীবদ্দশায় পূরণ করা নিঃসন্দেহে সম্মানের।
তবে প্রথাগত রীতির বাইরে এমন আয়োজন নিয়ে সমাজের একাংশের মধ্যে সমালোচনা ও ভিন্নমতও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সিকদার বলেন,“আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম–তিনি জীবিত থাকা অবস্থায়ই এই আয়োজন করব। আলহামদুলিল্লাহ, তার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে এবং তার মুখে হাসি দেখতে পেরে আমি আনন্দিত।”