Dhaka ০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে বহিরাগত  সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: এনবিআরের কড়া নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৯ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে বহিরাগতদের অননুমোদিত উপস্থিতি ও তাদের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি ও গোপন নথিপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ২০২৫) এনবিআরের পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের অনুমোদনে এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন বিভাগের দ্বিতীয় সচিব জনাব মোঃ আব্দুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট, বিভাগীয় দপ্তর ও সার্কেল পর্যায়ে অননুমোদিত বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সকল কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বহিরাগতদের কোনোভাবেই অফিসে রাখা না হয় এবং এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়।
এনবিআরের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কমিশনারেট ও সার্কেল অফিসে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি “সহযোগী” বা “কম্পিউটার অপারেটর” পরিচয়ে কাজ করছিলেন। এদের অনেকে কর্মকর্তাদের আত্মীয় বা সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তারা অনায়াসে দপ্তরে প্রবেশ করে ঘুষ বাণিজ্য ও গোপন নথিপত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অফিস সহকারীদের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতা এবং অফিস ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে বহিরাগতদের প্রভাব ক্রমে বেড়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বহিরাগতদের কারণে অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, রাজস্ব কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই এনবিআরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে দেখছি বহিরাগতরা দপ্তরে রাজকীয়ভাবে বসে ঘুষের টাকা লেনদেন করছে। এনবিআরের এই আদেশ বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি অনেকটা কমে আসবে।”
তবে ব্যবসায়ীরা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আদেশ শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি জানান, একই স্থানে দীর্ঘদিন কর্মরত সিপাই, সাব-ইন্সপেক্টর ও অফিস সহকারীদের নিয়মিত বদলি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিভাগীয় দপ্তরগুলোতে ঘুষ-দুর্নীতি আরও বৃদ্ধি না পায়।
রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহিরাগত উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়নে এনবিআর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করবে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ী সমাজ এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে “সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ” বলে উল্লেখ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে বহিরাগত  সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: এনবিআরের কড়া নির্দেশ

Update Time : ১০:২৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে বহিরাগতদের অননুমোদিত উপস্থিতি ও তাদের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি ও গোপন নথিপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ২০২৫) এনবিআরের পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের অনুমোদনে এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন বিভাগের দ্বিতীয় সচিব জনাব মোঃ আব্দুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট, বিভাগীয় দপ্তর ও সার্কেল পর্যায়ে অননুমোদিত বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সকল কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বহিরাগতদের কোনোভাবেই অফিসে রাখা না হয় এবং এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়।
এনবিআরের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কমিশনারেট ও সার্কেল অফিসে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি “সহযোগী” বা “কম্পিউটার অপারেটর” পরিচয়ে কাজ করছিলেন। এদের অনেকে কর্মকর্তাদের আত্মীয় বা সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তারা অনায়াসে দপ্তরে প্রবেশ করে ঘুষ বাণিজ্য ও গোপন নথিপত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অফিস সহকারীদের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতা এবং অফিস ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে বহিরাগতদের প্রভাব ক্রমে বেড়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বহিরাগতদের কারণে অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, রাজস্ব কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই এনবিআরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে দেখছি বহিরাগতরা দপ্তরে রাজকীয়ভাবে বসে ঘুষের টাকা লেনদেন করছে। এনবিআরের এই আদেশ বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি অনেকটা কমে আসবে।”
তবে ব্যবসায়ীরা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আদেশ শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি জানান, একই স্থানে দীর্ঘদিন কর্মরত সিপাই, সাব-ইন্সপেক্টর ও অফিস সহকারীদের নিয়মিত বদলি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিভাগীয় দপ্তরগুলোতে ঘুষ-দুর্নীতি আরও বৃদ্ধি না পায়।
রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহিরাগত উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়নে এনবিআর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করবে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ী সমাজ এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে “সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ” বলে উল্লেখ করে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।