Dhaka ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৫ Time View

লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসের জোড়া অর্ধশতকে নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। কলম্বোতে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো তারা। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে চতুর্থবারের মতো সফল রান তাড়া করল দক্ষিণ আফ্রিকা- এবারও কোনো উইকেট না হারিয়ে। এর আগে ইংল্যান্ডকেও ১০ উইকেটে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে, এই পরাজয়ে কার্যত সেমিফাইনাল দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার মুখে শ্রীলঙ্কা। দুই ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগ করে নেওয়া দলটি এখনো জয়ের মুখ দেখেনি। শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও তাদের ভাগ্য নির্ভর করবে অন্য ফলাফলের ওপর। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ওভারে ৪৬ রান তোলে শ্রীলঙ্কা, দুই উইকেট হারিয়ে। এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়- ঠিক ৫ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। পুনরায় খেলা শুরু হলে বাকি ৮ ওভারে তারা তোলে আরও ৫৯ রান, হারায় পাঁচ উইকেট। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১০৫ রানে। বৃষ্টি-আইন ডিএল মেথড দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং পরিকল্পনাও বদলে যায়। প্রতিটি বোলার সর্বোচ্চ চার ওভার করতে পারতেন, ফলে মারিজান ক্যাপ ও মাসাবাতা ক্লাস- দুই অভিজ্ঞ পেসারই আগেই ওভার ফুরিয়ে ফেলেন। এর ফলে দায়িত্ব পড়ে বাঁ-হাতি স্পিনার ননকুলুলেকো এমলাবার ওপর, যিনি ভেজা বলে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে নেন ৩ উইকেট মাত্র ৩০ রানে। ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার উলভার্ট ও ব্রিটস শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করেন। দু’জনই হাফসেঞ্চুরি করে দলকে ৫.১ ওভার হাতে রেখে সহজ জয় এনে দেন। এটি ছিল তাদের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ। উলভার্ট আগের ম্যাচের মতো এবারও নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। দারুণ টাইমিংয়ে খেলা কভার ড্রাইভ ও মিড-অনের ওপর দিয়ে মারা শটে শ্রীলঙ্কান বোলারদের বিপদে ফেলেন। অপরপ্রান্তে ব্রিটস শুরুতে সাবধানী থাকলেও পরে ইনোকা রানাওভিরাকে সোজা ছক্কা মেরে ছন্দে ফেরেন। ৮ম ওভারেই আসে দলের অর্ধশতক। এরপর দীলহারির এক ওভার থেকে আসে ১৮ রান- এর মধ্যেই উলভার্ট পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি। কিছুক্ষণ পর ব্রিটসও পঞ্চাশে পৌঁছে ম্যাচ শেষ করেন মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কায়। এর আগে ম্যাচের শুরুতে পেসার মাসাবাতা ক্লাস দারুণ ছন্দে ছিলেন। প্রথমে বিষ্মি গুনারত্নেকে ভেতরে- বাইরে দুই দিকেই সুইং করান, পরে হাসিনি পেরেরাকে বোল্ড করেন নিখুঁত এক ডেলিভারিতে। অপরদিকে, মারিজান ক্যাপও বিপজ্জনক ছিলেন- আতাপাত্তুকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান। বৃষ্টির পর বল ভেজা থাকায় ব্যাটারদের সুবিধা হলেও এমলাবা ও নাদিনে ডি ক্লার্ক নিখুঁত লাইন-লেংথে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখেন। শেষ দুই ওভারে মাত্র সাত রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন তারা, যা শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। উলভার্ট বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুটা আমার ভালো ছিল না, তাই আজ কিছু রান পেয়ে স্বস্তি লাগছে। আমরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো পরিকল্পনা করেছিলাম, সেটাই কাজে লেগেছে।’ এ জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালে ওঠা এখন প্রায় নিশ্চিত। তাদের নেট রান রেট এখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের বড় পরাজয়ের কারণে নেতিবাচক।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

বাগেরহাটে ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু, আওতায় আসবে ৬ মাস থেকে ৪ বছর ১১ মাস বয়সী শিশু

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা

Update Time : ১২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

লরা উলভার্ট ও তাজমিন ব্রিটসের জোড়া অর্ধশতকে নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। কলম্বোতে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো তারা। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে চতুর্থবারের মতো সফল রান তাড়া করল দক্ষিণ আফ্রিকা- এবারও কোনো উইকেট না হারিয়ে। এর আগে ইংল্যান্ডকেও ১০ উইকেটে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে, এই পরাজয়ে কার্যত সেমিফাইনাল দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার মুখে শ্রীলঙ্কা। দুই ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগ করে নেওয়া দলটি এখনো জয়ের মুখ দেখেনি। শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও তাদের ভাগ্য নির্ভর করবে অন্য ফলাফলের ওপর। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ওভারে ৪৬ রান তোলে শ্রীলঙ্কা, দুই উইকেট হারিয়ে। এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়- ঠিক ৫ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। পুনরায় খেলা শুরু হলে বাকি ৮ ওভারে তারা তোলে আরও ৫৯ রান, হারায় পাঁচ উইকেট। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১০৫ রানে। বৃষ্টি-আইন ডিএল মেথড দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং পরিকল্পনাও বদলে যায়। প্রতিটি বোলার সর্বোচ্চ চার ওভার করতে পারতেন, ফলে মারিজান ক্যাপ ও মাসাবাতা ক্লাস- দুই অভিজ্ঞ পেসারই আগেই ওভার ফুরিয়ে ফেলেন। এর ফলে দায়িত্ব পড়ে বাঁ-হাতি স্পিনার ননকুলুলেকো এমলাবার ওপর, যিনি ভেজা বলে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে নেন ৩ উইকেট মাত্র ৩০ রানে। ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার উলভার্ট ও ব্রিটস শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করেন। দু’জনই হাফসেঞ্চুরি করে দলকে ৫.১ ওভার হাতে রেখে সহজ জয় এনে দেন। এটি ছিল তাদের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ। উলভার্ট আগের ম্যাচের মতো এবারও নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। দারুণ টাইমিংয়ে খেলা কভার ড্রাইভ ও মিড-অনের ওপর দিয়ে মারা শটে শ্রীলঙ্কান বোলারদের বিপদে ফেলেন। অপরপ্রান্তে ব্রিটস শুরুতে সাবধানী থাকলেও পরে ইনোকা রানাওভিরাকে সোজা ছক্কা মেরে ছন্দে ফেরেন। ৮ম ওভারেই আসে দলের অর্ধশতক। এরপর দীলহারির এক ওভার থেকে আসে ১৮ রান- এর মধ্যেই উলভার্ট পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি। কিছুক্ষণ পর ব্রিটসও পঞ্চাশে পৌঁছে ম্যাচ শেষ করেন মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কায়। এর আগে ম্যাচের শুরুতে পেসার মাসাবাতা ক্লাস দারুণ ছন্দে ছিলেন। প্রথমে বিষ্মি গুনারত্নেকে ভেতরে- বাইরে দুই দিকেই সুইং করান, পরে হাসিনি পেরেরাকে বোল্ড করেন নিখুঁত এক ডেলিভারিতে। অপরদিকে, মারিজান ক্যাপও বিপজ্জনক ছিলেন- আতাপাত্তুকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান। বৃষ্টির পর বল ভেজা থাকায় ব্যাটারদের সুবিধা হলেও এমলাবা ও নাদিনে ডি ক্লার্ক নিখুঁত লাইন-লেংথে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখেন। শেষ দুই ওভারে মাত্র সাত রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন তারা, যা শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। উলভার্ট বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুটা আমার ভালো ছিল না, তাই আজ কিছু রান পেয়ে স্বস্তি লাগছে। আমরা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো পরিকল্পনা করেছিলাম, সেটাই কাজে লেগেছে।’ এ জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালে ওঠা এখন প্রায় নিশ্চিত। তাদের নেট রান রেট এখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের বড় পরাজয়ের কারণে নেতিবাচক।