১৫ এপ্রিল ২০২৬ | তেহরান
International Committee of the Red Cross (আইসিআরসি) সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানে প্রথমবারের মতো জরুরি ত্রাণসামগ্রীর চালান পৌঁছে দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মোট ১৭১ মেট্রিক টন প্রয়োজনীয় সহায়তা সামগ্রী Iranian Red Crescent Society (আইআরসিএস)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ট্রাকের চালান গতকাল তেহরানে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির পর এটিই ইরানে আইসিআরসির প্রথম ত্রাণ পাঠানো এবং গত ছয় সপ্তাহে অন্যতম প্রথম সীমান্তপারের মানবিক সহায়তা।
জর্ডানে আইসিআরসির গুদাম থেকে পাঠানো মোট ১৪টি ট্রাকে এমন সব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল, যা প্রায় ২৫ হাজার মানুষের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এসব ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—কম্বল, পানি বহনের জেরিক্যান, রান্নার সেট, ত্রিপল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, সৌর বাতি, বালতি ও গদি। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি ট্রাক তেহরানে আইআরসিএসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা যায়। বাকি নয়টি ট্রাকের চালান এই সপ্তাহের মধ্যেই হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়া, স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা ২০০টি জেনারেটর এবং ১০০টি মোটর পাম্প আইআরসিএসকে প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
আইসিআরসি জানিয়েছে, তারা আরও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইআরসিএসের মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।
ইরানে আইসিআরসির প্রধান প্রতিনিধি ভিনসেন্ট কাসার্দ বলেন,
“দেশজুড়ে যখন মানবিক চাহিদা এখনও অনেক বেশি, তখন আমরা আশা করি এই ত্রাণসামগ্রী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আগামী সপ্তাহগুলোতে আমরা আমাদের সহায়তা আরও বাড়াতে চাই এবং আইআরসিএসের মানবিক প্রচেষ্টাকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করতে চাই। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের নিবেদিত কাজ সত্যিই অসাধারণ। আমরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।”
বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও এবং জরুরি চাহিদা পূরণের সুযোগ তৈরি করলেও, সংঘাতের প্রভাব এখনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে গভীরভাবে বিরাজ করছে।
আইসিআরসি জানিয়েছে, তারা আইআরসিএস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
Reporter Name 




















