মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘শেষের খুবই কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন সামরিক অভিযান এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখার বিষয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ইরান যুদ্ধ শেষের পথে। আমি দেখতে পাচ্ছি এই যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা এখনও অভিযান শেষ করিনি। আমরা দেখব কী হয়। আমার মনে হয় তারা খুব তীব্রভাবে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা সংঘাতের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে যুদ্ধবিরতিতে যায় পক্ষগুলো। এই বিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে কূটনৈতিক উদ্যোগও জোরদার হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্য ছিল একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। তবে প্রায় ২২ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপরও ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে পারে দুই দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল আশাবাদের প্রতিফলন নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশলও হতে পারে। বিশেষ করে চলমান অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেই এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বহু দেশ উদ্বেগে রয়েছে। তাই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে সুস্পষ্ট চুক্তি অপরিহার্য। এর আগে পর্যন্ত যুদ্ধ শেষের ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল
Reporter Name 




















