কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ার বিল ইউনিয়নের পিলটকাটা খাল ও লেমশীখালী–কৈয়ারবিল সংযোগ ব্রিজ এলাকায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবৈধ মাছের ঘের ও কোমর/বাঁধ উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
২৩আগস্ট (শনিবার) সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াই প্রু মারমার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদাত হোসেন, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান হোসেন, নৌ কন্টিনজেন্টের একটি টিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভা.) শফিউল আলম, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে পিলটকাটা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক কোমর/বাঁধ ও অবৈধভাবে বাঁশ–জাল দিয়ে তৈরি চারটি মাছের ঘের উচ্ছেদ করা হয়। এসময় জব্দ করা হয় ৫৩টি বাঁশ, ১৮ পিস পলিথিন ও ১০টি বেঁড়া। জব্দকৃত এসব মালামাল নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিলেও ক্রেতা না পাওয়ায় স্থানীয় মসজিদের উন্নয়নকাজে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে খালের উপরে–নীচে অবশিষ্ট কোমরগুলো দুই দিনের মধ্যে স্ব উদ্যোগে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দেরঅভিযোগ, এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে রিদুয়ানুজ্জামান হেলালি নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১ বছর ধরে খালের উভয় পাশে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তিনি প্রশাসনের অনুমতির কথা বলে কয়েকজনকে ঘের বসাতে উৎসাহিত করেন এবং অর্থও আদায় করেন। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযানের আগেরদিন (২২ আগস্ট) রাতে অভিযোগকারী বাপ্পি নামের এক যুবককে ওই নেতার নির্দেশে লেমশীখালী–কৈয়ারবিল ব্রিজ এলাকায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এজাহার দাখিল করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেন বলেন,“খাল দখল করে বসানো সব ধরনের জাল, বাঁশ বা ঘের স্ব উদ্যোগে অপসারণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”