Dhaka ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়া সন্তান দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • ১৬৫ Time View

দুই বাংলার সমান জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দেশের সীমা পেরিয়ে ওপার বাংলায়ও অভিনয় ও রূপের দ্যুতি ছড়িয়েছেন। উপহার দিয়েছেন একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা। এরই মধ্যে ওপার বাংলার দর্শকদের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে একাধিক পুরস্কার। গেল ঈদেই মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের সঙ্গে জয়ার তাণ্ডব সিনেমা। এরপর ওপার বাংলায় নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। নাম ‘ডিয়ার মা’। যেখানে সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিজীবনেও সন্তান দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে জয়ার ভাবনা কি? সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী। জয়া বলেন, সবাইকে বা সবসময় বায়োলজিক্যাল মা হতে হবে, এমন তো কোনও কথা নেই। যদিও তারপরেও আমাদের সমাজ এখনও এই বিষয় ততটা উদার চোখে দেখে না। রক্ত, বংশ নিয়ে ভাবে। অভিনেত্রী বলেন, সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়টিই ‘ডিয়ার মা’-তে তুলে ধরা হয়েছে। পরিচালকের বক্তব্য, ভালোবাসা রক্তের সম্পর্কের থেকেও গাঢ়। কী করে সেটা বলছি, সেটাই দর্শক পর্দায় দেখবেন। আপনিই বলুন না, দত্তক নেওয়া কি এখনকার দিনে কোনও বড় ব্যাপার? যিনি সন্তান ধারণ করতে চান তিনি সেটাই করবেন। তারপরেও যদি কেউ সন্তান চান তিনি দত্তকের মাধ্যমে সেই ইচ্ছাপূরণ করতে পারেন। আজকের দায়িত্বশীল নাগরিকের সেটাই করা উচিত। বহু সন্তান আছে যারা ঘর পায় না, মা-বাবা পায় না। ওদের আপন করে নিলে আমাদের সন্তানের সঙ্গে ওই মানুষগুলো মিলে যাবে। সমাজে সমানাধিকার বাড়বে। ওই সাক্ষাৎকারে ব্যক্তি সম্পর্কে জটিলতা নিয়েও কথা বলেছেন জয়া। অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন তো কেউ রিলেশনশিপেই যায় না! সিচুয়েশনশিপ… আর কী কী যেন আছে? এসব ভাবনায় সব কিছুই আছে শুধু রিলেশনশিপটাই নেই।’ তাহলে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটাই কী পুরোনো হয়ে গেল? জবাবে জয়া বলেন, ‘ওগুলো তো ‘ওল্ড স্কুল’। যাইহোক, এই জিনিসগুলো আসবে। আবার ঘুরে আসবে। তবে পৃথিবীতে যতরকম মানুষ ততরকম সম্পর্ক। কোনো সম্পর্কই কোনো সম্পর্কের সঙ্গে মেলে না। আমার প্রত্যেকটি ফেলে আসা সম্পর্কও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই সম্পর্কগুলো নিয়েই আজকের আমি। সব ঝেড়ে ফেলে দেওয়া যায় না। ভুলটুকুও তো আমার! সেটা মেনে সামনের দিকে চলা।’ জয়া তার মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বললেও তা প্রকাশে এক ধরনের জড়তা অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসারে আমাদের মা সূর্য। মায়ের সংসারে শুধুই যে সন্তানে সীমাবদ্ধ তা নয়। পোষ্যরা আছে, পরিচারিকারা আছেন এরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ জয়ার কথায়, ‘মাকে কখনো বলিনি, আমি তোমাকে ভালবাসি। মাকে ডেকে কখনও আবার দুঃখপ্রকাশও করিনি। কেমন যেন লাগে! অথচ পৃথিবীর সকলের কাছে বলতে পারি ‘সরি’।’

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

জনপ্রিয়

জয়া সন্তান দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন

Update Time : ১১:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

দুই বাংলার সমান জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দেশের সীমা পেরিয়ে ওপার বাংলায়ও অভিনয় ও রূপের দ্যুতি ছড়িয়েছেন। উপহার দিয়েছেন একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা। এরই মধ্যে ওপার বাংলার দর্শকদের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে একাধিক পুরস্কার। গেল ঈদেই মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের সঙ্গে জয়ার তাণ্ডব সিনেমা। এরপর ওপার বাংলায় নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। নাম ‘ডিয়ার মা’। যেখানে সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিজীবনেও সন্তান দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে জয়ার ভাবনা কি? সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী। জয়া বলেন, সবাইকে বা সবসময় বায়োলজিক্যাল মা হতে হবে, এমন তো কোনও কথা নেই। যদিও তারপরেও আমাদের সমাজ এখনও এই বিষয় ততটা উদার চোখে দেখে না। রক্ত, বংশ নিয়ে ভাবে। অভিনেত্রী বলেন, সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়টিই ‘ডিয়ার মা’-তে তুলে ধরা হয়েছে। পরিচালকের বক্তব্য, ভালোবাসা রক্তের সম্পর্কের থেকেও গাঢ়। কী করে সেটা বলছি, সেটাই দর্শক পর্দায় দেখবেন। আপনিই বলুন না, দত্তক নেওয়া কি এখনকার দিনে কোনও বড় ব্যাপার? যিনি সন্তান ধারণ করতে চান তিনি সেটাই করবেন। তারপরেও যদি কেউ সন্তান চান তিনি দত্তকের মাধ্যমে সেই ইচ্ছাপূরণ করতে পারেন। আজকের দায়িত্বশীল নাগরিকের সেটাই করা উচিত। বহু সন্তান আছে যারা ঘর পায় না, মা-বাবা পায় না। ওদের আপন করে নিলে আমাদের সন্তানের সঙ্গে ওই মানুষগুলো মিলে যাবে। সমাজে সমানাধিকার বাড়বে। ওই সাক্ষাৎকারে ব্যক্তি সম্পর্কে জটিলতা নিয়েও কথা বলেছেন জয়া। অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন তো কেউ রিলেশনশিপেই যায় না! সিচুয়েশনশিপ… আর কী কী যেন আছে? এসব ভাবনায় সব কিছুই আছে শুধু রিলেশনশিপটাই নেই।’ তাহলে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটাই কী পুরোনো হয়ে গেল? জবাবে জয়া বলেন, ‘ওগুলো তো ‘ওল্ড স্কুল’। যাইহোক, এই জিনিসগুলো আসবে। আবার ঘুরে আসবে। তবে পৃথিবীতে যতরকম মানুষ ততরকম সম্পর্ক। কোনো সম্পর্কই কোনো সম্পর্কের সঙ্গে মেলে না। আমার প্রত্যেকটি ফেলে আসা সম্পর্কও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই সম্পর্কগুলো নিয়েই আজকের আমি। সব ঝেড়ে ফেলে দেওয়া যায় না। ভুলটুকুও তো আমার! সেটা মেনে সামনের দিকে চলা।’ জয়া তার মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বললেও তা প্রকাশে এক ধরনের জড়তা অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসারে আমাদের মা সূর্য। মায়ের সংসারে শুধুই যে সন্তানে সীমাবদ্ধ তা নয়। পোষ্যরা আছে, পরিচারিকারা আছেন এরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ জয়ার কথায়, ‘মাকে কখনো বলিনি, আমি তোমাকে ভালবাসি। মাকে ডেকে কখনও আবার দুঃখপ্রকাশও করিনি। কেমন যেন লাগে! অথচ পৃথিবীর সকলের কাছে বলতে পারি ‘সরি’।’