Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিউইদের দায়িত্ব ছাড়ছেন গ্যারি স্টিড

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • ১৪৯ Time View

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ছাড়ছেন দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ গ্যারি স্টিড। চলতি জুনের শেষে ৭ বছরের কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানবেন তিনি। স্টিড দায়িত্বে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা, তিনবার দলকে তুলেছেন সীমিত ওভারের বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চের ফাইনালে এবং ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় করেছেন। ৫৩ বছর বয়সী স্টিড আগেই সাদা বলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। পরে তাকে টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেওয়া হয়। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) পরিকল্পনা, সব ফরম্যাটে এক কোচ নিয়োগ দেওয়ার। যে কারণেই চুক্তির মেয়াদ শেষে বিদায় নেবেন স্টিড। ২০১৮ সালে মাইক হেসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব নেন স্টিড। এরপরই কিউইদের জাতীয় দলে রেখে গেছেন এক বিশাল ছাপ। তার অধীনে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যায় নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচে ভাগ্যের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাউন্ডারি সংখ্যার নিয়মে হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের কাছে। এরপর ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ঐতিহাসিক বৈশ্বিক শিরোপা এনে দেন স্টিড। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বিশ্ব আসরে এটি ছিল কিউইদের প্রথম শিরোপা। এছাড়া ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্বও রয়েছে স্টিডের অধীনে। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০২৪ সালে ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়। যা আগে কখনো কোনো বিদেশি দল করতে পারেনি। স্টিড বলেন, ‘গত সাত বছরে অনেক দুর্দান্ত স্মৃতি জমেছে। এমন একদল অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত। যারা সবসময় দেশের জন্য, একে অপরের জন্য ও ভক্তদের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মাইক হেসন দলকে শক্ত মূল্যবোধ এবং ভালো খেলার ধরনে রেখে গিয়েছিলেন। আমি চেষ্টা করেছি সেই ভিত্তির ওপর দলকে আরও ধারাবাহিক করে তুলতে। আমাদের দল সব ফরম্যাটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে পেরেছে, এই ভাবনাটা ভালো লাগে। আমি চাইব, ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রতিপক্ষ যেন জানে ব্ল্যাকক্যাপস এমন এক দল, যারা সহজে ভাঙে না, লড়াই করে যায় শেষ অবধি।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্টিড আরও বলেন, ‘এখন কিছুটা বিশ্রাম ও পুনর্জীবনের সময় নেব। তবে আমার কোচিংয়ের প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট এবং আমি দেশে কিংবা বিদেশে কোচিংয়ের সুযোগ খুঁজে দেখবো, যেখানে আমি আমার ৩০ বছরের খেলোয়াড় ও কোচিং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারি।’ এনজেডসির প্রধান নির্বাহী স্কট উইনিক বলেন, ‘গ্যারি স্টিড ব্ল্যাকক্যাপসের জন্য একজন অসাধারণ নেতা ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের অবস্থান যেভাবে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। তার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং ঐতিহাসিক বিদেশ সফরের সফলতা দেশের মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এনজেডসির পক্ষ থেকে গ্যারি ও তার পরিবারকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

কিউইদের দায়িত্ব ছাড়ছেন গ্যারি স্টিড

Update Time : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ছাড়ছেন দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ গ্যারি স্টিড। চলতি জুনের শেষে ৭ বছরের কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানবেন তিনি। স্টিড দায়িত্বে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা, তিনবার দলকে তুলেছেন সীমিত ওভারের বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চের ফাইনালে এবং ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় করেছেন। ৫৩ বছর বয়সী স্টিড আগেই সাদা বলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। পরে তাকে টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেওয়া হয়। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) পরিকল্পনা, সব ফরম্যাটে এক কোচ নিয়োগ দেওয়ার। যে কারণেই চুক্তির মেয়াদ শেষে বিদায় নেবেন স্টিড। ২০১৮ সালে মাইক হেসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব নেন স্টিড। এরপরই কিউইদের জাতীয় দলে রেখে গেছেন এক বিশাল ছাপ। তার অধীনে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যায় নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচে ভাগ্যের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাউন্ডারি সংখ্যার নিয়মে হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের কাছে। এরপর ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ঐতিহাসিক বৈশ্বিক শিরোপা এনে দেন স্টিড। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বিশ্ব আসরে এটি ছিল কিউইদের প্রথম শিরোপা। এছাড়া ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্বও রয়েছে স্টিডের অধীনে। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০২৪ সালে ভারতের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়। যা আগে কখনো কোনো বিদেশি দল করতে পারেনি। স্টিড বলেন, ‘গত সাত বছরে অনেক দুর্দান্ত স্মৃতি জমেছে। এমন একদল অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত। যারা সবসময় দেশের জন্য, একে অপরের জন্য ও ভক্তদের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মাইক হেসন দলকে শক্ত মূল্যবোধ এবং ভালো খেলার ধরনে রেখে গিয়েছিলেন। আমি চেষ্টা করেছি সেই ভিত্তির ওপর দলকে আরও ধারাবাহিক করে তুলতে। আমাদের দল সব ফরম্যাটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে পেরেছে, এই ভাবনাটা ভালো লাগে। আমি চাইব, ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রতিপক্ষ যেন জানে ব্ল্যাকক্যাপস এমন এক দল, যারা সহজে ভাঙে না, লড়াই করে যায় শেষ অবধি।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্টিড আরও বলেন, ‘এখন কিছুটা বিশ্রাম ও পুনর্জীবনের সময় নেব। তবে আমার কোচিংয়ের প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট এবং আমি দেশে কিংবা বিদেশে কোচিংয়ের সুযোগ খুঁজে দেখবো, যেখানে আমি আমার ৩০ বছরের খেলোয়াড় ও কোচিং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারি।’ এনজেডসির প্রধান নির্বাহী স্কট উইনিক বলেন, ‘গ্যারি স্টিড ব্ল্যাকক্যাপসের জন্য একজন অসাধারণ নেতা ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের অবস্থান যেভাবে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। তার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং ঐতিহাসিক বিদেশ সফরের সফলতা দেশের মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এনজেডসির পক্ষ থেকে গ্যারি ও তার পরিবারকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।’