Dhaka ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ায় নামে-বেনামে প্রকল্প বানিয়ে ঈদের আগে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পিআইও’র বিরুদ্ধে  ‎

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫
  • ৩২১ Time View

‎নিজস্ব প্রতিবেদক,কুতুবদিয়া: কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এসএমএ করিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিসে বসে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, তিনি টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছেন।

জানা যায়,২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের নামে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসএমএ করিম স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নামে প্রকল্পের কমিটি তৈরি করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের অজান্তেই তাদের নামে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। পরে পিআইও অফিসে ডেকে কমিটিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং টাকা উত্তোলনের পর তা থেকে ৭-১০% কমিশন নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে,পিআইও নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং বাসায় বসেই ফাইল অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি অফিসে মাদকসেবন করেন এবং রমজান মাসেও এ অভ্যাস বন্ধ রাখেননি। একাধিক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, অফিসে গেলে তাকে প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়, যা মাদকসেবনের ইঙ্গিত দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জেএম তারেক জিয়াসহ স্থানীয় ব্যবহারকারীরা পিআইও’র অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, পুরাতন প্রকল্পকে নতুন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, এমনকি মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকল্পও বাদ পড়েনি। তারা দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে পিআইও এসএমএ করিমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “পিআইও’র বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকসেবন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কুতুবদিয়ায় নামে-বেনামে প্রকল্প বানিয়ে ঈদের আগে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পিআইও’র বিরুদ্ধে  ‎

Update Time : ০৬:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

‎নিজস্ব প্রতিবেদক,কুতুবদিয়া: কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এসএমএ করিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অফিসে বসে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, তিনি টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছেন।

জানা যায়,২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের নামে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসএমএ করিম স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নামে প্রকল্পের কমিটি তৈরি করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের অজান্তেই তাদের নামে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। পরে পিআইও অফিসে ডেকে কমিটিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং টাকা উত্তোলনের পর তা থেকে ৭-১০% কমিশন নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে,পিআইও নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং বাসায় বসেই ফাইল অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি অফিসে মাদকসেবন করেন এবং রমজান মাসেও এ অভ্যাস বন্ধ রাখেননি। একাধিক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, অফিসে গেলে তাকে প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়, যা মাদকসেবনের ইঙ্গিত দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জেএম তারেক জিয়াসহ স্থানীয় ব্যবহারকারীরা পিআইও’র অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, পুরাতন প্রকল্পকে নতুন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, এমনকি মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকল্পও বাদ পড়েনি। তারা দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে পিআইও এসএমএ করিমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “পিআইও’র বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকসেবন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”