Dhaka ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোরেলগঞ্জে ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি, টিনের বেড়া দিয়ে চলে প্রাথমিকের পাঠদান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষ জুড়ে টানা ১৬ বছর ধরে ফাঁড়ি পুলিশের কার্যক্রম চলছে। সাইক্লোন শেল্টারটির দ্বিতীয়তলার ৩টি কক্ষ ও ওয়াশরুম ফাঁড়ি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নিচতলার গবাদি পশুর আশ্রয় স্থলকে।  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিশু শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

সাইক্লোন শেলটটারের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি কক্ষ তৈরী করে পাঠদানের কাজ চালানো হচ্ছে। ওই কক্ষ তিনটিতে পর্যাপ্ত আলো নেই। নেই বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ওয়াশরুম বা শৌচাগারও নেই। এমন ভয়াবহ ও দু:খজনক দৃশ্য দেখা গেছে মোরেলগঞ্জের জিউধরা ইউনিয়নের ১৩৪ নং লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিশু শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০০১ সালে জিউধরা ইউনিয়নে একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ভূমি অধিগ্রহনের কাজ ও ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহন হলেও ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে, ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষ দখল করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু পাঠদানের কাঙ্খিত পরিবেশ নেই।  একটানা ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষ দখল করে ফাঁড়ি পুলিশের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সে কারনে ভবনের নীচতলায় দুর্যোাগকালীন গবাদি পশুর আশ্রয় নেওয়ার জায়গায় বেড়া দিয়ে চালানো হচ্ছে পাঠদান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল ভবনে পুলিশের কার্যক্রম চলায় লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। একই ভবনে পাঠদান, শালীস ব্যবস্থা ও পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়ায় বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশী পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, লক্ষীখালী অস্থায়ী ফাঁড়ির নিজস্ব জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রকৃয়াধীন। ভবন নির্মাণ হলে বিদ্যালয় ভবন থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, একই ভবনে শিশুদের পাঠদান ও পুলিশী কার্যক্রম চলতে পারেনা। শীঘ্রই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালি কেনো খোলা ‘সম্ভব নয়’, স্পষ্ট করল ইরান

মোরেলগঞ্জে ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি, টিনের বেড়া দিয়ে চলে প্রাথমিকের পাঠদান

Update Time : ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষ জুড়ে টানা ১৬ বছর ধরে ফাঁড়ি পুলিশের কার্যক্রম চলছে। সাইক্লোন শেল্টারটির দ্বিতীয়তলার ৩টি কক্ষ ও ওয়াশরুম ফাঁড়ি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নিচতলার গবাদি পশুর আশ্রয় স্থলকে।  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিশু শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

সাইক্লোন শেলটটারের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি কক্ষ তৈরী করে পাঠদানের কাজ চালানো হচ্ছে। ওই কক্ষ তিনটিতে পর্যাপ্ত আলো নেই। নেই বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ওয়াশরুম বা শৌচাগারও নেই। এমন ভয়াবহ ও দু:খজনক দৃশ্য দেখা গেছে মোরেলগঞ্জের জিউধরা ইউনিয়নের ১৩৪ নং লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিশু শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০০১ সালে জিউধরা ইউনিয়নে একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ভূমি অধিগ্রহনের কাজ ও ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহন হলেও ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে, ফাঁড়ির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষ দখল করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু পাঠদানের কাঙ্খিত পরিবেশ নেই।  একটানা ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষ দখল করে ফাঁড়ি পুলিশের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সে কারনে ভবনের নীচতলায় দুর্যোাগকালীন গবাদি পশুর আশ্রয় নেওয়ার জায়গায় বেড়া দিয়ে চালানো হচ্ছে পাঠদান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল ভবনে পুলিশের কার্যক্রম চলায় লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। একই ভবনে পাঠদান, শালীস ব্যবস্থা ও পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়ায় বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশী পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, লক্ষীখালী অস্থায়ী ফাঁড়ির নিজস্ব জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রকৃয়াধীন। ভবন নির্মাণ হলে বিদ্যালয় ভবন থেকে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, একই ভবনে শিশুদের পাঠদান ও পুলিশী কার্যক্রম চলতে পারেনা। শীঘ্রই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।