Dhaka ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহি ছাড়া জেন্ডার সংবেদনশীলতা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ Time View

সমাজে জেন্ডার সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে হলে গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং এই দুই খাতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত হলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক একটি ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবি, জাগো ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল নারী বা পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।” তিনি মনে করেন, রাজনীতি ও গণমাধ্যম যদি পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির আওতায় আসে, তাহলে সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।

গণমাধ্যম ও রাজনীতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী উভয়কেই সারাক্ষণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি সঠিক জবাবদিহির প্রক্রিয়া না থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়।”

স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারে।” একই সঙ্গে মোবাইল জার্নালিজম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে যে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন, যা এক ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, “ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহির কথা বলা অবাস্তব। জবাবদিহি হতে হবে সুনির্দিষ্ট অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে।” এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিকভাবে নীতিমালা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে সরকার একতরফা সিদ্ধান্তে যাবে না বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ইতোমধ্যে সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সম্পাদক ও টেলিভিশন মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহি ছাড়া জেন্ডার সংবেদনশীলতা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ১২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সমাজে জেন্ডার সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে হলে গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং এই দুই খাতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত হলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক একটি ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবি, জাগো ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল নারী বা পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।” তিনি মনে করেন, রাজনীতি ও গণমাধ্যম যদি পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির আওতায় আসে, তাহলে সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।

গণমাধ্যম ও রাজনীতির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী উভয়কেই সারাক্ষণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি সঠিক জবাবদিহির প্রক্রিয়া না থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়।”

স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারে।” একই সঙ্গে মোবাইল জার্নালিজম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে যে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন, যা এক ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, “ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহির কথা বলা অবাস্তব। জবাবদিহি হতে হবে সুনির্দিষ্ট অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে।” এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিকভাবে নীতিমালা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে সরকার একতরফা সিদ্ধান্তে যাবে না বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ইতোমধ্যে সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সম্পাদক ও টেলিভিশন মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।