জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বাস ও ট্রাকসহ গণপরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঘোষণা করা হতে পারে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আলোচনা করেছি, আশা করছি আগামীকালই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।”
গত ১৮ এপ্রিল রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পর থেকেই পরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জোরালো হয়। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন মালিকরা বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপের কথা তুলে ধরে দ্রুত ভাড়া সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় পরিবহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংগঠনের নেতাদের মতে, জ্বালানি ও ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরা যন্ত্রাংশ ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে, যা পুরো খাতকে আর্থিক চাপে ফেলেছে।
এদিকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিআরটিএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যাত্রী ও পরিবহন উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে যাতে কোনো পক্ষই অতিরিক্ত ক্ষতির মুখে না পড়ে।
পরিবহন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে ভাড়ার ভারসাম্য না থাকায় খাতটি চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গণপরিবহনে নতুন ভাড়া কাঠামো চালু হতে পারে, যা নগর ও দূরপাল্লার যাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
Reporter Name 



















