Dhaka ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়া সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ, ৫ দিনে পা হারালেন দুই রোহিঙ্গা যুবক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন উখিয়ার পালংখালী এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউনুছকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ বলেন, “তার ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এই ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই সীমান্ত এলাকায় আরেকটি মাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং ডান পায়ের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এতে ঝুঁকি বেড়েছে। এক রোহিঙ্গা বাসিন্দা জানান, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শামসুল আলম বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেকেই জীবিকার কারণে সীমান্তের কাছাকাছি যায়, ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।” একই কথা বলছেন স্থানীয় নেতারাও। তাদের মতে, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাচ্ছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের সীমান্তে না যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শূন্যরেখার চরাঞ্চলগুলো এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগেও শনিবার (২৯ মার্চ) একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক কিশোরের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক মাত্রা পেয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
About Author Information

ট্রাম্প চাচ্ছে ২০ বছর, ইরান অনড় ৫ বছরে

উখিয়া সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ, ৫ দিনে পা হারালেন দুই রোহিঙ্গা যুবক

Update Time : ১২:২৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন উখিয়ার পালংখালী এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউনুছকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ বলেন, “তার ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এই ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই সীমান্ত এলাকায় আরেকটি মাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং ডান পায়ের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এতে ঝুঁকি বেড়েছে। এক রোহিঙ্গা বাসিন্দা জানান, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শামসুল আলম বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেকেই জীবিকার কারণে সীমান্তের কাছাকাছি যায়, ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।” একই কথা বলছেন স্থানীয় নেতারাও। তাদের মতে, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাচ্ছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের সীমান্তে না যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শূন্যরেখার চরাঞ্চলগুলো এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগেও শনিবার (২৯ মার্চ) একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক কিশোরের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক মাত্রা পেয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।