রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যেসব পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেল নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।
সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মগবাজার, তেজগাঁও, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পে যানবাহনের সারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও লম্বা হচ্ছে। তেল নিতে আসা মানুষ অভিযোগ করেছেন, কিছু পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তারা বলেন, “তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু পাম্পে সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, দেশে কোনো প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই। মন্ত্রী বলেন, “বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছে। এই ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণেই কিছু পাম্পে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকার এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।”
সকাল ১০টার দিকে আসাদগেট এলাকায় দেখা যায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত পৌঁছেছে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে সারি মোহাম্মদপুর টাউন হল ছাড়িয়ে গেছে। মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসা শফিউল্লাহ বলেন, “পাঁচটি পাম্প ঘুরেছি, কিন্তু সবই বন্ধ। তেল না পেলে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে।”
পাম্পের কর্মীরা জানান, রাতের মজুদ শেষ হওয়ায় দুপুর নাগাদ তেল সরবরাহ আসবে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের আবুল কাশেম বলেন, “সকাল ৬টায় সারি ধরেছি। পাম্পে পৌঁছাতে সকাল ৯টা বাজে। এখনও তেল পাইনি। অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।” বিজয় সরণি ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের তাশরিফ হাসান বলেন, “তেল না পেলে আজ অফিসে যাওয়া সম্ভব হবে না। গাজীপুর থেকে এসেছি, কিন্তু কোনো পাম্পে তেল পাইনি।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাস চলাচল কমে গেলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন। তাই দ্রুত বাজার তদারকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি করেছেন নাগরিকরা।