অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী বৈঠকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “প্রথম দিনে অর্ধেকেরও কম অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গেছে। কিছু বিষয়ে সদস্যদের ভিন্ন মত আছে, সেগুলো পরের বৈঠকে আবার আলোচনা হবে।”
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এখন সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদ এই বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনে লিখিত মতামতও নেওয়া হবে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংশোধন, বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন সংশোধন এবং বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ। এছাড়া সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়সসীমা নির্ধারণ, সরকারি চাকরি সংশোধন এবং জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, পুলিশ কমিশন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ। পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, বেসামরিক বিমান চলাচল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
কমিটির সভাপতি জানান, বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর ২টায় আবার বৈঠক হবে। লক্ষ্য হচ্ছে ২ এপ্রিলের মধ্যে সব অধ্যাদেশ যাচাই করে সংসদের কাছে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা। তিনি বলেন, “সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি সংসদে তোলা যেতে পারে।”
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।