Dhaka ১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ, নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩৭ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এমন পরিস্থিতিতে গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন কাউকে থাকা উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ নেই। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কাজেই এই নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়া সামনের পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়োগটি বাতিল করে নতুন করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন গভর্নর নিয়োগের পেছনে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে বা কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, সেটি আরও গুরুতর বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অতীতে আর্থিক খাতে অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবার কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়, তা রাষ্ট্রের জন্য কোনো অবস্থাতেই কল্যাণকর হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে জোরপূর্বক রদবদল প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, “এবার আমাদের পালা সংস্কৃতি প্রতিহত করতে না পারলে সেটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। সরকারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিতে পারে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে আশা তৈরি করেছে, আবার কিছু সিদ্ধান্ত নতুন উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রীর চাঁদাবাজি নিয়ে বক্তব্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক এবং দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ঘটনাকে তিনি সম্ভাবনা ও ঝুঁকির মিশ্র সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ, নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি টিআইবির

Update Time : ১০:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এমন পরিস্থিতিতে গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন কাউকে থাকা উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ নেই। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কাজেই এই নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়া সামনের পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিয়োগটি বাতিল করে নতুন করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন গভর্নর নিয়োগের পেছনে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে বা কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, সেটি আরও গুরুতর বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অতীতে আর্থিক খাতে অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবার কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়, তা রাষ্ট্রের জন্য কোনো অবস্থাতেই কল্যাণকর হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে জোরপূর্বক রদবদল প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, “এবার আমাদের পালা সংস্কৃতি প্রতিহত করতে না পারলে সেটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। সরকারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিতে পারে।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে আশা তৈরি করেছে, আবার কিছু সিদ্ধান্ত নতুন উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রীর চাঁদাবাজি নিয়ে বক্তব্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক এবং দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ঘটনাকে তিনি সম্ভাবনা ও ঝুঁকির মিশ্র সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।