শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক নামল ১৯ শতাংশে

প্রতিনিধি: / ৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও ইন্দোনেশিয়া সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করার একটি ঐতিহাসিক চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া ৯৯ শতাংশ এরও বেশি আমেরিকান আমদানির ওপর থেকে বাণিজ্যিক বাধা অপসারণ করবে। এর মধ্যে বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক খাবার, প্রযুক্তি ও গাড়ি সংক্রান্ত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিপরীতে, ওয়াশিংটন বেশ কিছু ইন্দোনেশিয়ান পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দিয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক এবং বস্ত্র অন্যতম। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বাধাগুলো ভেঙে ফেলবে। গাজার পুনর্গঠন নিয়ে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন ‘শান্তির বোর্ড’-এর প্রথম বৈঠকে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ওয়াশিংটন সফরের সময় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এই সফরকালে দুই দেশের কোম্পানিগুলো খনি, প্রযুক্তি ও টেঙ্টাইলসহ বিভিন্ন শিল্পে অংশীদারিত্বের জন্য ৩৮.৪ বিলিয়ন ডলারের (২৮.৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্টার্তো জানান, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার করা অনুরোধগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা।’এই চুক্তির ফলে ইন্দোনেশিয়া তাদের শীর্ষ রপ্তানি পণ্য পাম তেলসহ কফি, মশলা, চকলেট, প্রাকৃতিক রাবার ও অন্যান্য বকে হাজার ৭০০টিরও বেশি পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে শুল্ক ছাড় নিশ্চিত করেছে। বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়া আমেরিকান পণ্যের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে ও গাড়ির নিরাপত্তা, নির্গমন মান, চিকিৎসা ডিভাইস ও ওষুধের ক্ষেত্রে মার্কিন মানদণ্ড গ্রহণ করবে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত দিক হলো—ইন্দোনেশিয়া তাদের বিরল মাটির অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন সংস্থাগুলোকে সহায়তা করবে। এটি ওয়াশিংটনকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা সমপ্রসারণে বড় ধরনের সুবিধা দেবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই চুক্তি কার্যকর হবে ও উভয় দেশ একমত হলে পরবর্তীতে শর্তাবলিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো আশা প্রকাশ করেছেন, এই পদক্ষেপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে সাহায্য করবে। বুধবার মার্কিন চেম্বার অফ কমার্সের এক অনুষ্ঠানে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 


এই বিভাগের আরো খবর