ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইসির জন-সংযোগ পরিচালক শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি বলেন, “সারা দেশের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনও কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি থাকলেও সামগ্রিক ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশেই স্থিতিশীল রয়েছে।”
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসি জানিয়েছিল, ভোটের হার পরে জানানো হবে। ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অধিকাংশ আসনে পোস্টালভোট যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান জানালে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণণা সম্পন্ন করেই এ তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলে। এবারের নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
এবারের নির্বাচনে অংশ নেয় ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন; যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি; যারা ধানের শীষ প্রতীকে লড়েন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করেন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন বড়। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।