বিশ্বকাপ বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে মূল পর্বের টিকিট কেটেছিল ইতালি। অন্যদিকে বাছাইপর্বে ছিটকে যাওয়া স্কটল্যান্ড সৌভাগ্যবশত জায়গা পেয়ে সেই হারের শোধ তুলল। গতকাল সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে এই আসরের সর্বোচ্চ ২০৭ রান তোলার পর নবাগত ইতালিকে ৭৩ রানে হারাল স্কটিশরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম উইকেটের দেখা পেতে লম্বা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ইতালিকে। ১৪তম ওভারে গ্র্যান্ট স্টুয়ার্টের পঞ্চম বলে জর্জ মানসি ১৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে হ্যারি মানেন্তির ক্যাচ হন। ততক্ষণে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে তুলেছিল স্কটল্যান্ড। কারণ ওপেনিং জুটিতেই মাইকেল জোন্সকে নিয়ে ৮৩ বলে ১২৬ রানের জুটি গড়ে ফেলেন মানসি। ৫৪ বলে ১৩ চার ও ২ ছয়ে ইনিংস সেরা ৮৪ রান করেন এই ওপেনার। ৬৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। পরের ওভারে আরেক ওপেনার জোন্সও উইকেট হারান। তার ব্যাটে আসে ৩০ বলে ৩৭ রান। ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন ঝড় তোলেন। তার সঙ্গে ৪ ওভার ক্রিজে থেকে ৪৮ রান তোলেন অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। অবশ্য তাতে তার অবদান ছিল মাত্র ১৫ রানের। দুইশ থেকে ১৫ রান দূরে থেকে শেষ ওভারে ব্যাটিং শুরু করে স্কটল্যান্ড। প্রথম বলেই টম ব্রুস আউট হওয়ার পর ক্রিজে নেমে তাণ্ডব চালান মাইকেল লিস্ক। ৫ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওই ওভারে ২২ রানে দলের স্কোর দুইশ ছাড়ায়। ১৮ বলে চারটি ছয়ে ৪১ রানে খেলছিলেন ম্যাকমুলেন। চার উইকেট হারিয়ে এই আসরের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ করে স্কটল্যান্ড। ইতালির পক্ষে আলী হাসান, গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট, থমাস ড্রাকা ও জেজে স্মুটস একটি করে উইকেট নেন। বড় লক্ষ্যে নেমে ইতালি ৪০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। তবে হাল ছাড়েনি তারা। দুই মানেন্তি ভাই মিলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। ১৩তম ওভারে হ্যারি মানেন্তিকে (৩৭) ফিরিয়ে এই প্রতিরোধ ভেঙে দেন লিস্ক। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইতালি। ভাইকে অনুসরণ করে পরের ওভারে ইনিংস সেরা ৫২ রান করে আউট হন বেন মানেস্তি। ৩১ বলের ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ১ ছয়। ২৮ বলের মধ্যে ২১ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারায় ইতালি। শুরুতেই অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় ১০ জন নিয়ে ব্যাট করতে হয়েছে তাদেরকে। ১৬.৪ ওভারে ১৩৪ রানে অলআউট হয় ইতালি। শেষ দিকে ঝড় তোলা লিস্ক সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন। আর ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ রান করা মানসি ফিল্ডিংয়ে চার ক্যাচ নিয়ে দারুণ অবদান রাখেন।