বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শেষ পরমাণু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, অস্ত্র উন্নয়নে ‘সংযম’ দেখাতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং একই সঙ্গে চীন তার অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে উৎসাহিত হতে পারে। সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল। তিনি বলেন, ‘যে কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’ ইয়োহান আরও বলেন, ‘এটি দেখিয়ে দেয়, নতুন চুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে নতুন আস্থা নির্মাণের কাজ কতটা বড় ও কঠিন।’ ভবিষ্যতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় চীনকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চীনকে এতে (অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায়) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’ ইয়োহান আরও বলেন, ‘চীন বারবার বহুপাক্ষিকতার পক্ষে অবস্থানের কথা বলে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা সংযম দেখাতে প্রস্তুত এবং তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করতে আগ্রহী।’ এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। রুবিও বলেন, ‘২১ শতকে প্রকৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হলে চীনকে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়— এ কথা প্রেসিডেন্ট আগেও স্পষ্ট করে বলেছেন। কারণ চীনের অস্ত্রভাণ্ডার বিশাল ও তা দ্রুত বাড়ছে।’ চীনের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত সমপ্রসারিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির কাছে প্রায় ৫৫০টি কৌশলগত পরমাণু উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে সীমা নির্ধারিত আছে, তার চেয়ে এই সংখ্যা এখনও কম। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ৮০০টি করে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চুক্তিভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছেও আরও প্রায় ১০০টি কৌশলগত পরমাণু উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে।