বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামপ্রতিক ফোনালাপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ করতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছে তাইওয়ান। চীন দ্বীপটির ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলার প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি। তাইপেই থেকে এএফপি জানায়, চেন এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ‘পারস্পরিক সম্মান’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সতর্কতাও উচ্চারণ করেন তিনি। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ফোনালাপকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ‘অত্যন্ত ভালো’। চেন বলেন, ‘এই টেলিফোন যোগাযোগ নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান সম্পর্ককে ‘খুবই দৃঢ় ও শক্তিশালী’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবে আমরা বিশ্বাস করি, এটি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে অবদান রাখবে, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালি ও পুরো অঞ্চলে চীন ক্রমাগত উত্তেজনা বাড়িয়ে চলার বাস্তবতায়।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই।’গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার তাইওয়ানকে কখনো শাসন না করলেও চীন দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে। শি জিনপিং তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেও চেন বলেন, এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়বে না। ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার তাইওয়ান চীনের সঙ্গে কোনো সংঘাতে সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে। বেইজিংকে নিরস্ত করতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটনের চাপও রয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এ বছর প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন শতাংশের বেশি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট বারবার সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদনের সরকারি পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ গত ডিসেম্বরে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি কর্মসূচিতে ব্যয় হওয়ার কথা, যা দ্বীপটির জন্য অন্যতম বড় অস্ত্র প্যাকেজ। চেন বলেন, ‘ভবিষ্যৎ অস্ত্র বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন একমাত্র বিষয় হলো আমাদের বিরোধী দলগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে অবস্থান।’তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাইওয়ানের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা দেখিনি।’ আগামী এপ্রিলে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুই নেতা তাইওয়ানের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ‘বড় সমঝোতা’ করবেন- এমন আশঙ্কা নেই বলে জানান চেন। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাইওয়ান নিঃসন্দেহে জাতীয় স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু।’ ‘কেউ নিজের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেবে না।’