বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শেষ হয়েছে দেশি ক্রিকেটারদের দাপটের স্পষ্ট ছাপ রেখে। উদ্বোধনী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের পর্দা নেমেছে তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী শতকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই স্থানীয় ক্রিকেটাররা ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ফাইনালে ৬৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শিরোপার লড়াই ছাড়াও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নজর কেড়েছে দেশি ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারিদের তালিকায় শীর্ষস্থানগুলোতে আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। ব্যাটিং ও বোলিং মিলিয়ে সেরা পাঁচে বিদেশি ক্রিকেটারের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত।
ব্যাট হাতে সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিলেন সিলেট টাইটানসের পারভেজ হোসেন ইমন। ১২ ম্যাচে ১৩২ দশমিক ৯৯ স্ট্রাইকরেটে ৩৯৫ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার ঠিক পেছনে ছিলেন রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়। ১১ ম্যাচে ৩৮২ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি অর্ধশতক। শিরোপাজয়ী রাজশাহীর দুই ব্যাটিং স্তম্ভ তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত জায়গা করে নেন তালিকার তিন ও চার নম্বরে। সেরা পাঁচে একমাত্র বিদেশি হিসেবে ছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান।
বোলিং বিভাগে দেশি পেস ও স্পিনারদের আধিপত্য ছিল আরও স্পষ্ট। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরীফুল ইসলাম। ১২ ম্যাচে মাত্র ৫ দশমিক ৮৪ ইকোনমি রেটে ২৬ উইকেট নিয়ে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল তাসকিন আহমেদের, যিনি ২০২৫ আসরে নিয়েছিলেন ২৫ উইকেট।
শরীফুলের পর ১৮টি করে উইকেট নিয়ে তালিকায় ছিলেন নাসুম আহমেদ ও বিনুরা ফার্নান্দো। রাজশাহীর রিপন মন্ডল মাত্র ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে নিজের কার্যকারিতা দেখান। হাসান মাহমুদ ১৬ উইকেট নিয়ে ছিলেন শীর্ষ বোলারদের আলোচনায়। বোলিংয়ের সেরা দশে অধিকাংশ জায়গাই দখল করে রাখেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।
পুরো টুর্নামেন্টে বিদেশি তারকারা থাকলেও মূল সাফল্যের গল্প লিখেছেন স্থানীয়রাই। চার-ছক্কার ঝড়, চাপের মুহূর্তে কার্যকর বোলিং আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা, সব মিলিয়ে বিপিএলের দ্বাদশ আসর হয়ে উঠেছে দেশি ক্রিকেটারদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ।
এই ধারাবাহিকতা জাতীয় দলেও ধরে রাখতে পারলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্তি আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিএলের এবারের পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।