রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসককে বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। নিহত আনোয়ার উল্লাহ শেরে বাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন ছিলেন। পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জানা গেছে, বাসায় থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় তারা দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে আনোয়ার উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে ঘরের গ্রিল কেটে একদল চোর প্রবেশ করে। এ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী। তাদের দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে চোর চক্র ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আনোয়ার উল্লাহ মারা যান। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান শেরেবাংলা নগর থানার ওসি।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, আনোয়ার উল্লাহ ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ও রুকন ছিলেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হোমিও চিকিৎসক ও সমাজসেবক ছিলেন। সন্ত্রাসীরা তার বাসার স্বর্নালংকার, টাকাসহ বহু মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।