ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বোরোর আবাদ। শীতে বোরোর বীজতলার চারা লাল হয়ে যাচ্ছে। বোরো ধানের চারা রোপণ ও বেড়ে ওঠায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ফলে আবাদও ব্যাহত হচ্ছে। বীজতলা টিকিয়ে রাখতে কৃষকরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। বিকাল থেকে পরের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত পলেথিন বা ট্রিফল দিয়ে ঢেকে রেখে এবং পানি বদল করে বীজতলা বাঁচিয়ে রাখতে নানা চেষ্টা করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৬ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরী হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে কৃষকরা বোরো আবাদ শুরু করেছে।
জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উপকূল অঞ্চলের কৃষি কাজ এক থেকে দেড়মাস পরে শুরু হচ্ছে। এর ফলে অন্য এলাকার সাথে উপকূলীয় এলাকার চাষাবাদ ব্যবধান তৈরী হচ্ছে। সব মৌসুমেই দেরিতে শুরু হচ্ছে। এখনো আমন ধান কর্তন চলছে। ধান কাটার পর এসব ক্ষেত বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হবে। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার সাথে মোকাবেলা করে ফসল লাগাতে হয়।
উপজেলার পুরাইকাটী ব্লাকের কৃষক ফারুক হোসেন বালেন, তীব্র শীত ও কুয়াশায় ধানের চারা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে, পানি বদলসহ নানা রকম পরিচর্যা করে বীজতলা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় বীজ তলা তৈরি দেরি হয়েছে। আগাম তৈরি বীজ তলার কোন ক্ষতি হয়নি তবে তীব্র শীতের ১০-১৫ দিনের মধ্যে যে সকল কৃষক বীজ তলা তৈরি করছে তাদের বীজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষকদের বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিদিন সকাল বিকাল পানি বদল করার জন্য বলা হয়েছে। তীব্র শীত কমলে বোরোর চারা রোপন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।