Dhaka ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩১ Time View

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীসহ দেশের বিভিন্ন নদনদী-সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলেদের সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হবে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞায় রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রচার। এই সময়ে কাজ না থাকায় জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার। বরাদ্দ পেতে সঠিকভাবে তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। অভিযান সফল করতে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলেপল্লিগুলোতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় করা হয়েছে মাইকিং। স্থানীয়রা বলছেন, জেলেরা এখন অনেক সচেতন। সরকারের আইন অমান্য করে নদীতে কেউ যাবে না। এদিকে, ইলিশ ধরা বন্ধের খবর শুনে ক্রেতারা ইলিশ কিনতে ছুটছেন মৎস্য ঘাটগুলোতে। ক্রেতারা বলেছেন, ইলিশের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ ২২ দিন নদীতে কঠোর নজরদারি রাখবে। আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, জেলেদের ২২ দিন ধৈর্য ধরে মা ইলিশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার এ সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা দেবে। তবু যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান জেলেদের উদ্দেশে বলেন, নিষিদ্ধ সময় নদী থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন নিষেধ। যারা এই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু শাস্তির জন্য নয়—বরং আপনাদের (জেলেদের) ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য। ইউএনও বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

Update Time : ১২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীসহ দেশের বিভিন্ন নদনদী-সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলেদের সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হবে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞায় রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রচার। এই সময়ে কাজ না থাকায় জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার। বরাদ্দ পেতে সঠিকভাবে তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। অভিযান সফল করতে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলেপল্লিগুলোতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় করা হয়েছে মাইকিং। স্থানীয়রা বলছেন, জেলেরা এখন অনেক সচেতন। সরকারের আইন অমান্য করে নদীতে কেউ যাবে না। এদিকে, ইলিশ ধরা বন্ধের খবর শুনে ক্রেতারা ইলিশ কিনতে ছুটছেন মৎস্য ঘাটগুলোতে। ক্রেতারা বলেছেন, ইলিশের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ ২২ দিন নদীতে কঠোর নজরদারি রাখবে। আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, জেলেদের ২২ দিন ধৈর্য ধরে মা ইলিশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার এ সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা দেবে। তবু যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান জেলেদের উদ্দেশে বলেন, নিষিদ্ধ সময় নদী থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন নিষেধ। যারা এই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু শাস্তির জন্য নয়—বরং আপনাদের (জেলেদের) ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য। ইউএনও বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।