Dhaka ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে এড়িয়ে চলবেন বিব্রতকর পরিস্থিতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৭৭ Time View

শীত মৌসুম আমাদের দেশ যেন নানান অনুষ্ঠান, নানান আয়োজনের ঋতু। বন্ধুদের আড্ডা, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া, পিকনিক কিংবা পারিবারিক সম্মেলন- সব কিছুতে অংশ নেওয়া যেমন এই সময়ে আনন্দের তেমনি মাঝে মাঝে পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কারণ কোনো কোনো সময় এমন অবস্থা তৈরি হয় যেখানে হয়ত মুখ থেকে কথা বের হয় না বা অস্বস্তিতে পড়তে হয় অপরিচিত মানুষ বেশি হলে। এমন অবস্থাকে ব্যাখ্যা করে সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘হ্যামিল্টন কলেজ’য়ে দর্শনশাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেঙ্ান্ড্রা প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগে বিব্রতকর অবস্থা তখনই তৈরি হয় যখন হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হয় যে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর হয়ত আপনি সেটা আশাই করেননি।’’ এরকম হলে নৈতিকভাবে নিজেকে সঠিক মনে হলেও মুখ দিয়ে কথা ফুটে না। এটার ভালো দিক হল- তখন বোঝা যায় আশপাশের সামাজিক অবস্থায় কোনো সমস্যা আছে বা সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘মানুষ কখনও বিব্রতকর হয় না, হয় পরিস্থিতি। প্রায় সময় বিব্রতকর অবস্থা আর অস্বস্তিতে ভোগাকে এক করে ফেলা হয়। দুটি আসলে ভিন্ন বিষয়।’’ অস্বস্তি হল ব্যক্তিগত অনুভূতি বা ভুল পদক্ষেপ; যা সঠিক পদক্ষেপে কাটিয়ে ওঠা যায়। আবার অনুমান করেও ব্যাপারটা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা এবং এই বিষয়ের ওপর ‘বুক অফ অকওয়ার্ডনেস’ লেখার পর প্লাকিয়াস সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এই অবস্থা সবসময় এড়ানো যায় না বা এড়ানো উচিতও না। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

নিজের লক্ষ্য জানুন আর সেই হিসেবে খেলুন
‘অনিশ্চয়তা’ হল বিব্রতকর অবস্থার অঙ্েিজন। এই ধরনের পরিস্থিতে পড়তে পারেন আন্দাজ করে নিজেকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন- এখানে থেকে বের হয়ে আসতে কী করতে পারি? যখন লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে, তখন নিজের ভূমিকা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস আসার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যদি চিন্তিত হন, বাসার বয়োজেষ্ঠ্য কেউ পারিবারিক আয়োজনে বিব্রতকর রাজনৈতিক আলাপ শুরু করে দিতে পারে, তাহলে ভাবুন সেখান থেকে আপনি কি চান। আপনি কী তাকে ভুল প্রমাণিত করবেন? নাকি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো কম দুশ্চিন্তা করবেন? নাকি নিজের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরবেন? প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘তার মানে এই না, অন্য কেউ আপনার কথায় ব্যথিত হবে না। তবে নিজের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসটা আসবে সেটার কারণে নেতিবাচক চিন্তা ঝেরে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে সমর্থ হবেন।’’

বিব্রতকর অবস্থায় ‘আমি’ বলতে কিছু নেই
অতিরিক্ত আত্মসচেতনতার জন্ম দেয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। যা একই সঙ্গে অস্বস্তিকর এবং উল্টো ফল দেয়। নিজের প্রতি নজর দেওয়ার ফলে আশাপাশের মানুষ কী সংকেত বা আচরণ দিচ্ছে সে ব্যাপারে মানানসই কোনো ভূমিকা দিতে পারেন না। অথচ এই সংকেত বা আচরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ। তাই শুধু নিজের অস্বস্তির দিকে নজর না দিয়ে সামাজিকতায় অন্যরা কী নাটক করছে, সেদিকেও নজর দিন।

পরিকল্পনা, গোছানো আর সেই মতো কাজ করা
ভ্রমণে বা কেনাকাটা করতে গেলে, আগে থেকেই অনেক পরিকল্পনা করা হয়। একইভাবে কথাবার্তাও অনেক সময় সঠিক মানচিত্র ধরে আগাতে পারে যদি আগে থেকেই বিষয়বস্তু বা প্রশ্ন হাতের মুঠোয় রাখা যায়। আর এসব পরিস্থিতিতে একা সামলানোর দরকার নেই, সঙ্গে রাখতে পারেন আত্মীয় বা বন্ধুদের। প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘যদি আশঙ্কা করেন কোনো অনুষ্ঠানে প্রাক্তনের সাথে দেখা হতে পারে, বা অনেকদিন ইচ্ছে করে যোগাযোগ করেন এমন কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে- তবে আগে থেকেই কিছু কাজ করে রাখতে পারেন। যেমন- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুকটাক কথাবার্তা চালানো, যাতে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আর বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে না হয়।’’ এছাড়া বিব্রতকর পরিস্থিতি কাটিতে উঠতে, আশপাশের জিনিসের ওপরেও নির্ভর করা যায়। যেমন হতে পারে, খাবার ওঠানোর নাম করে প্লেট হাতে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বা আশাপাশের কোনো জিনিসপত্র সুন্দর কিছু থাকলে সেটা নিয়ে প্রশংসা বাক্য শুরু করা।

হাসা
সমস্ত রকম চেষ্টার পরও বিব্রতকর অবস্থা তেরি হলে ‘হাসি’র মাধ্যমে সেখানে থেকে বের হয়ে আসা যায়। আর এজন্য সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষার দরকার নেই। হতে পারে কোনো কৌতুক শোনানো বা ছোট-খাট স্বল্প আলাপ কোনো বিষয় নিয়ে।

ভিন্ন কিছু ভাবা
‘‘এসব পদ্ধতি বেশিরভাগ সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করে। তবে তার আগে কিছুক্ষণ ভাবুন আপনি আসলেই কী চান! কারণ মনে রাখতে হবে সামাজিক অনিশ্চিয়তা থেকে যেহেতু বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়, সে কারণে এটা আপনার গতি বা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে’’- বলেন এই দর্শনের অধ্যাপক। তাই অস্বস্তি শুরু হলে আশপাশে নজর দিয়ে খেয়াল করুন কোন কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতি শুরু হচ্ছে, আর সেটা কাটানোর আর কী কী উপায় বের করা সম্ভব।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

ফকিরহাটে ৪০ ড্রাম রেনুপোনা জব্দের ৪ ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে

যেভাবে এড়িয়ে চলবেন বিব্রতকর পরিস্থিতি

Update Time : ১২:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

শীত মৌসুম আমাদের দেশ যেন নানান অনুষ্ঠান, নানান আয়োজনের ঋতু। বন্ধুদের আড্ডা, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া, পিকনিক কিংবা পারিবারিক সম্মেলন- সব কিছুতে অংশ নেওয়া যেমন এই সময়ে আনন্দের তেমনি মাঝে মাঝে পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কারণ কোনো কোনো সময় এমন অবস্থা তৈরি হয় যেখানে হয়ত মুখ থেকে কথা বের হয় না বা অস্বস্তিতে পড়তে হয় অপরিচিত মানুষ বেশি হলে। এমন অবস্থাকে ব্যাখ্যা করে সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘হ্যামিল্টন কলেজ’য়ে দর্শনশাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেঙ্ান্ড্রা প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগে বিব্রতকর অবস্থা তখনই তৈরি হয় যখন হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হয় যে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর হয়ত আপনি সেটা আশাই করেননি।’’ এরকম হলে নৈতিকভাবে নিজেকে সঠিক মনে হলেও মুখ দিয়ে কথা ফুটে না। এটার ভালো দিক হল- তখন বোঝা যায় আশপাশের সামাজিক অবস্থায় কোনো সমস্যা আছে বা সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘মানুষ কখনও বিব্রতকর হয় না, হয় পরিস্থিতি। প্রায় সময় বিব্রতকর অবস্থা আর অস্বস্তিতে ভোগাকে এক করে ফেলা হয়। দুটি আসলে ভিন্ন বিষয়।’’ অস্বস্তি হল ব্যক্তিগত অনুভূতি বা ভুল পদক্ষেপ; যা সঠিক পদক্ষেপে কাটিয়ে ওঠা যায়। আবার অনুমান করেও ব্যাপারটা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা এবং এই বিষয়ের ওপর ‘বুক অফ অকওয়ার্ডনেস’ লেখার পর প্লাকিয়াস সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এই অবস্থা সবসময় এড়ানো যায় না বা এড়ানো উচিতও না। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

নিজের লক্ষ্য জানুন আর সেই হিসেবে খেলুন
‘অনিশ্চয়তা’ হল বিব্রতকর অবস্থার অঙ্েিজন। এই ধরনের পরিস্থিতে পড়তে পারেন আন্দাজ করে নিজেকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন- এখানে থেকে বের হয়ে আসতে কী করতে পারি? যখন লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে, তখন নিজের ভূমিকা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস আসার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যদি চিন্তিত হন, বাসার বয়োজেষ্ঠ্য কেউ পারিবারিক আয়োজনে বিব্রতকর রাজনৈতিক আলাপ শুরু করে দিতে পারে, তাহলে ভাবুন সেখান থেকে আপনি কি চান। আপনি কী তাকে ভুল প্রমাণিত করবেন? নাকি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো কম দুশ্চিন্তা করবেন? নাকি নিজের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরবেন? প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘তার মানে এই না, অন্য কেউ আপনার কথায় ব্যথিত হবে না। তবে নিজের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাসটা আসবে সেটার কারণে নেতিবাচক চিন্তা ঝেরে নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে সমর্থ হবেন।’’

বিব্রতকর অবস্থায় ‘আমি’ বলতে কিছু নেই
অতিরিক্ত আত্মসচেতনতার জন্ম দেয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। যা একই সঙ্গে অস্বস্তিকর এবং উল্টো ফল দেয়। নিজের প্রতি নজর দেওয়ার ফলে আশাপাশের মানুষ কী সংকেত বা আচরণ দিচ্ছে সে ব্যাপারে মানানসই কোনো ভূমিকা দিতে পারেন না। অথচ এই সংকেত বা আচরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ। তাই শুধু নিজের অস্বস্তির দিকে নজর না দিয়ে সামাজিকতায় অন্যরা কী নাটক করছে, সেদিকেও নজর দিন।

পরিকল্পনা, গোছানো আর সেই মতো কাজ করা
ভ্রমণে বা কেনাকাটা করতে গেলে, আগে থেকেই অনেক পরিকল্পনা করা হয়। একইভাবে কথাবার্তাও অনেক সময় সঠিক মানচিত্র ধরে আগাতে পারে যদি আগে থেকেই বিষয়বস্তু বা প্রশ্ন হাতের মুঠোয় রাখা যায়। আর এসব পরিস্থিতিতে একা সামলানোর দরকার নেই, সঙ্গে রাখতে পারেন আত্মীয় বা বন্ধুদের। প্লাকিয়াস বলেন, ‘‘যদি আশঙ্কা করেন কোনো অনুষ্ঠানে প্রাক্তনের সাথে দেখা হতে পারে, বা অনেকদিন ইচ্ছে করে যোগাযোগ করেন এমন কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে- তবে আগে থেকেই কিছু কাজ করে রাখতে পারেন। যেমন- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুকটাক কথাবার্তা চালানো, যাতে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আর বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে না হয়।’’ এছাড়া বিব্রতকর পরিস্থিতি কাটিতে উঠতে, আশপাশের জিনিসের ওপরেও নির্ভর করা যায়। যেমন হতে পারে, খাবার ওঠানোর নাম করে প্লেট হাতে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বা আশাপাশের কোনো জিনিসপত্র সুন্দর কিছু থাকলে সেটা নিয়ে প্রশংসা বাক্য শুরু করা।

হাসা
সমস্ত রকম চেষ্টার পরও বিব্রতকর অবস্থা তেরি হলে ‘হাসি’র মাধ্যমে সেখানে থেকে বের হয়ে আসা যায়। আর এজন্য সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষার দরকার নেই। হতে পারে কোনো কৌতুক শোনানো বা ছোট-খাট স্বল্প আলাপ কোনো বিষয় নিয়ে।

ভিন্ন কিছু ভাবা
‘‘এসব পদ্ধতি বেশিরভাগ সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করে। তবে তার আগে কিছুক্ষণ ভাবুন আপনি আসলেই কী চান! কারণ মনে রাখতে হবে সামাজিক অনিশ্চিয়তা থেকে যেহেতু বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়, সে কারণে এটা আপনার গতি বা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে’’- বলেন এই দর্শনের অধ্যাপক। তাই অস্বস্তি শুরু হলে আশপাশে নজর দিয়ে খেয়াল করুন কোন কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতি শুরু হচ্ছে, আর সেটা কাটানোর আর কী কী উপায় বের করা সম্ভব।