Dhaka ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দুরকানী উপজেলার  নাম জিয়ানগর পূর্নরবহলের দাবি! 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২৮৪ Time View
ইন্দুরকানী,জিয়ানগর.(পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে আগের নাম অর্থাৎ ‘জিয়ানগর’ নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ দাবির স্বপক্ষে জিয়ানগর উপজেলার সকল ইউনিয়নের ৩০০৪ জন নাগরিকের স্বাক্ষরযুক্ত এক স্মারকলিপি গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বরাবর প্রদান করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন বিশ্ববরেন্য আলেম শহিদ আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে  জিয়া নগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।
এলাকাবাসীর এ দাবিতে বলা হয়, বিগত ৪-দলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্য জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ৮৭তম বৈঠকে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানাকে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা নামে নামকরণের প্রস্তাব আনা হয়। এরপর ২০০২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে পিরোজপুর সদর উপজেলার পত্তাশী, পারেরহাট, ও বালিপাড়া- এই ৩টি ইউনিয়নের ৯৪.৬০ বর্গ কি.মি. আয়তন এলাকা নিয়ে জিয়ানগর উপজেলা নামে একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের বলে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্থানীয় জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে ইন্দুরকানী সফর করে ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক জনসভায় ইন্দুরকানী থানাকে জিয়ানগর উপজেলা নাম ঘোষনাকরর শুভ উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে, ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ১১৩ তম সভায় পিরোজপুরের ৭ম উপজেলা জিয়ানগরের নাম পরিবর্তন করে পূর্বের ইন্দুরকানী থানার নামে নাম করনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়, এবং পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (উপজেলা-১ শাখা) এর জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এ নাম পরিবর্তনের পিছনে ‘জিয়ানগর’ নামের সাথে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামের সামঞ্জস্যতা থাকায় কেবলমাত্র রাজনৈতিক  প্রতিহিংসার বসোবর্তী হয়ে হীনমন্যতা ব্যাতীত আর কোনো কারণ ছিল না। বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ এই নাম পরিবর্তনের কোনো সুসংগঠিত প্রতিবাদ করতে পারিনি। যেহেতু বিগত ৫ই আগস্ট, ২০২৪-এ ছাত্রজনতার রক্তাক্ত আত্মত্যাগের পথে উঠে আসা গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে এবং ছাত্রজনতার আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসেবে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। সুতরাং, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অপকর্ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের  রয়েছে, যে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজও করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আমাদের জন্মস্থান এই উপজেলার  নাম “ইন্দুরকানী” পরিবর্তন করে এর পূর্বতন নাম ‘জিয়ানগর’ প্রতিস্থাপন করা অতীব জরুরী বলে জনসাধারনের অভিমত।
উপজেলার এই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আমাদের স্থানীয় জনগণের হৃদয়ে লালিত  দীর্ঘদিনর স্বপ্ন।
এই দেশপ্রেমিক সরকার আমাদের দাবীটি মেনে নিবে বলে স্থানীয় জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাষ করে।
  এবং  এই দাবি গণমানুষের আত্মত্যাগের বিশ্বাস ।
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে চেক জালিয়াতির অভিযোগসহ যৌথ ব্যবসা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রাণনাশের আশঙ্কা

ইন্দুরকানী উপজেলার  নাম জিয়ানগর পূর্নরবহলের দাবি! 

Update Time : ০৯:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ইন্দুরকানী,জিয়ানগর.(পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে আগের নাম অর্থাৎ ‘জিয়ানগর’ নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ দাবির স্বপক্ষে জিয়ানগর উপজেলার সকল ইউনিয়নের ৩০০৪ জন নাগরিকের স্বাক্ষরযুক্ত এক স্মারকলিপি গতকাল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বরাবর প্রদান করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন বিশ্ববরেন্য আলেম শহিদ আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে  জিয়া নগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।
এলাকাবাসীর এ দাবিতে বলা হয়, বিগত ৪-দলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্য জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ৮৭তম বৈঠকে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানাকে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা নামে নামকরণের প্রস্তাব আনা হয়। এরপর ২০০২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে পিরোজপুর সদর উপজেলার পত্তাশী, পারেরহাট, ও বালিপাড়া- এই ৩টি ইউনিয়নের ৯৪.৬০ বর্গ কি.মি. আয়তন এলাকা নিয়ে জিয়ানগর উপজেলা নামে একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের বলে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্থানীয় জনগনের দাবির প্রেক্ষিতে ইন্দুরকানী সফর করে ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক জনসভায় ইন্দুরকানী থানাকে জিয়ানগর উপজেলা নাম ঘোষনাকরর শুভ উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে, ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ১১৩ তম সভায় পিরোজপুরের ৭ম উপজেলা জিয়ানগরের নাম পরিবর্তন করে পূর্বের ইন্দুরকানী থানার নামে নাম করনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়, এবং পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং তারিখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (উপজেলা-১ শাখা) এর জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এ নাম পরিবর্তনের পিছনে ‘জিয়ানগর’ নামের সাথে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামের সামঞ্জস্যতা থাকায় কেবলমাত্র রাজনৈতিক  প্রতিহিংসার বসোবর্তী হয়ে হীনমন্যতা ব্যাতীত আর কোনো কারণ ছিল না। বিগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ এই নাম পরিবর্তনের কোনো সুসংগঠিত প্রতিবাদ করতে পারিনি। যেহেতু বিগত ৫ই আগস্ট, ২০২৪-এ ছাত্রজনতার রক্তাক্ত আত্মত্যাগের পথে উঠে আসা গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে এবং ছাত্রজনতার আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসেবে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। সুতরাং, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অপকর্ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের  রয়েছে, যে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজও করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আমাদের জন্মস্থান এই উপজেলার  নাম “ইন্দুরকানী” পরিবর্তন করে এর পূর্বতন নাম ‘জিয়ানগর’ প্রতিস্থাপন করা অতীব জরুরী বলে জনসাধারনের অভিমত।
উপজেলার এই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আমাদের স্থানীয় জনগণের হৃদয়ে লালিত  দীর্ঘদিনর স্বপ্ন।
এই দেশপ্রেমিক সরকার আমাদের দাবীটি মেনে নিবে বলে স্থানীয় জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাষ করে।
  এবং  এই দাবি গণমানুষের আত্মত্যাগের বিশ্বাস ।