Dhaka ০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেছতা হওয়ার কারন যেভাবে দূর করবেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৪
  • ২৭৮ Time View

লাইফস্টাইল: মেছতা বা মেলাসমা বিব্রতকর এক সমস্যা। এটি ত্বকের খুব সাধারণ একটি রোগ। সাধারণত গালের দুই পাশে কালো বা খয়েরি, অথবা হালকা বাদামি রঙের দাগের মতো যে আস্তরণ দেখা যায় তাকেই মেছতা বলা হয়ে থাকে। তবে চিবুক, নাক, কপাল, এমনকি বাহুতেও এটি দেখা দিতে পারে। তবে মেছতা কেন হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই আজকের প্রতিবেদনে মেছতা কেন হয় সেই সম্পর্কে জানবো: মানবদেহে সাধারণত দুটি কারণে মেছতা হয়ে থাকে। এর মধ্যে হরমনাল ইম্বেলেন্স প্রধান কারণ। মেয়েদের মেছতা হওয়ার হার ছেলেদের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত¡া নারীদের প্রায়ই মেছতার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। কারণ গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়। যার ফলে মেছতা হয়ে থাকে। আবার, মেনোপজের পর যারা হরমোন থেরাপি নেন, তাদেরও মেছতা হতে পারে। তবে হাইপোথাইরয়েড রোগীদের এতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। এছাড়াও আলোক সংবেদনশীলতার কারণেও মেছতা হতে পারে। যেমন, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে মেছতা হতে পারে। এমনকি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনের এলইডি স্ক্রিনের অতি সংস্পর্শে এটি বাড়তে পারে। এছাড়াও কিছু ওষুধ ত্বককে অতি আলোক সংবেদনশীল বা ফটোটক্সিক করে তোলে। আবার কিছু প্রসাধনী বা সুগন্ধি সাবানও আলোক সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এসব ছাড়াও পিতা-মাতা বা পরিবারে অন্য সদস্যদের কারো মেছতা থাকলে জেনেটিক্যালি এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মেছতার চিকিৎসা তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, ওড়াল মেডিকেশন, টপিক্যাল মেডিকেশন, প্রসিডিউয়াল অর্থাৎ সার্জারি, লেজার, ইনজেকশন, কেমিক্যাল পিলিং ইত্যাদি। সমস্যার প্রকোপের ওপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। নিয়মিত সানবøক বা সানস্ক্রিনের ব্যবহার মেছতা প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়াও যেকোনো কসমেটিকস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সচেতন হতে হবে। এজন্য ভালো ব্র্যান্ড দেখে কসমেটিকস পণ্য কিনতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড লেখা আছে, এমন পণ্য ব্যবহার করা হয়। আবার, অনেক নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনের কারণেও মেছতা হতে পারে। তাই তাদের গাইনোকোলজিস্ট দেখিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। আর গর্ভাবস্থায় মেছতা হলে সেটা নিয়ে আসলে কিছু করা যায় না। বাচ্চা জন্মের পর এটি এমনিতেই সেরে যায়। যদি ভালো না হয় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও মেছতা দূর করতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী। মেলানিনের মাত্রা বেশি হলে সাধারণত শরীরে কালো দাগ পড়ে। এর আধিক্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। এটি প্রতিরোধে প্রচুর পরিমাণে সবুজ ও রঙিন ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। এসব খাদ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হতে বাধা দেয়। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও ঘুম অনেক বেশি জরুরি। মেছতার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সুফল পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করতে হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

ফকিরহাটে ৪০ ড্রাম রেনুপোনা জব্দের ৪ ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে

মেছতা হওয়ার কারন যেভাবে দূর করবেন

Update Time : ০৬:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৪

লাইফস্টাইল: মেছতা বা মেলাসমা বিব্রতকর এক সমস্যা। এটি ত্বকের খুব সাধারণ একটি রোগ। সাধারণত গালের দুই পাশে কালো বা খয়েরি, অথবা হালকা বাদামি রঙের দাগের মতো যে আস্তরণ দেখা যায় তাকেই মেছতা বলা হয়ে থাকে। তবে চিবুক, নাক, কপাল, এমনকি বাহুতেও এটি দেখা দিতে পারে। তবে মেছতা কেন হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই আজকের প্রতিবেদনে মেছতা কেন হয় সেই সম্পর্কে জানবো: মানবদেহে সাধারণত দুটি কারণে মেছতা হয়ে থাকে। এর মধ্যে হরমনাল ইম্বেলেন্স প্রধান কারণ। মেয়েদের মেছতা হওয়ার হার ছেলেদের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত¡া নারীদের প্রায়ই মেছতার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। কারণ গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়। যার ফলে মেছতা হয়ে থাকে। আবার, মেনোপজের পর যারা হরমোন থেরাপি নেন, তাদেরও মেছতা হতে পারে। তবে হাইপোথাইরয়েড রোগীদের এতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। এছাড়াও আলোক সংবেদনশীলতার কারণেও মেছতা হতে পারে। যেমন, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে মেছতা হতে পারে। এমনকি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনের এলইডি স্ক্রিনের অতি সংস্পর্শে এটি বাড়তে পারে। এছাড়াও কিছু ওষুধ ত্বককে অতি আলোক সংবেদনশীল বা ফটোটক্সিক করে তোলে। আবার কিছু প্রসাধনী বা সুগন্ধি সাবানও আলোক সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এসব ছাড়াও পিতা-মাতা বা পরিবারে অন্য সদস্যদের কারো মেছতা থাকলে জেনেটিক্যালি এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মেছতার চিকিৎসা তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন, ওড়াল মেডিকেশন, টপিক্যাল মেডিকেশন, প্রসিডিউয়াল অর্থাৎ সার্জারি, লেজার, ইনজেকশন, কেমিক্যাল পিলিং ইত্যাদি। সমস্যার প্রকোপের ওপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। নিয়মিত সানবøক বা সানস্ক্রিনের ব্যবহার মেছতা প্রতিরোধে অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়াও যেকোনো কসমেটিকস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সচেতন হতে হবে। এজন্য ভালো ব্র্যান্ড দেখে কসমেটিকস পণ্য কিনতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড লেখা আছে, এমন পণ্য ব্যবহার করা হয়। আবার, অনেক নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনের কারণেও মেছতা হতে পারে। তাই তাদের গাইনোকোলজিস্ট দেখিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। আর গর্ভাবস্থায় মেছতা হলে সেটা নিয়ে আসলে কিছু করা যায় না। বাচ্চা জন্মের পর এটি এমনিতেই সেরে যায়। যদি ভালো না হয় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও মেছতা দূর করতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী। মেলানিনের মাত্রা বেশি হলে সাধারণত শরীরে কালো দাগ পড়ে। এর আধিক্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। এটি প্রতিরোধে প্রচুর পরিমাণে সবুজ ও রঙিন ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। এসব খাদ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হতে বাধা দেয়। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও ঘুম অনেক বেশি জরুরি। মেছতার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সুফল পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করতে হবে।