Dhaka ০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩০৩ Time View

বিদেশ : ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। জি-সেভেনও নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা না বাড়ানোর লক্ষ্যে ক‚টনৈতিক উদ্যোগও চলছে। ইসরায়েলের সংযমের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় বাড়ছে। গত শনিবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে ইরান এখনো পর্যন্ত পালটা হামলা থেকে রেহাই পেলেও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এড়াতে পারছে না সে দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা বুধবার ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে সে দেশের ড্রোন ও মিসাইল কোম্পানিগুলোর কার্যকলাপ চাপের মুখে পড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠী জি-সেভেনও ইরানের অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে। ইরানের হামলার নিন্দা করে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থনের অঙ্গীকার জানিয়ে ইইউ নেতারা সব পক্ষের উদ্দেশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহŸান জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, ইরানের ওপর বড় আকারে ইসরায়েলের পালটা হামলা না চালানো জরুরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের সংযমের আশা করছে। তবে বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামের মূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে আপাতত ইরানের তেল রপ্তানির পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে না পশ্চিমা দেশগুলো। সেটা করলে চীনও রুষ্ট হতে পারে। শুধু ইসরায়েলের ওপর হামলার কারণে নয়, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান যেভাবে হামলাকারী দেশ হিসেবে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে চলেছে, ইইউ তার পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে সেই প্রবণতা মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। এবার সেগুলোর আওতা বাড়িয়ে মিসাইল সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রক্সি’ শক্তিগুলোকেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আওতায় আনতে চাইছে ইইউ। তবে ইরানের শক্তিশালী রেভোলিউশনরি গার্ড কর্পস বাহিনীকে ইইউ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ আইনি জটিলতার কারণে এখনো সফল হচ্ছে না। কোনো ইইউ সদস্য রাষ্ট্র সেই বাহিনীর সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ পেলে তবেই সেটা সম্ভব হবে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন। ইসরায়েলের ওপর পালটা হামলা না চালানোর চাপ থাকলেও দেশটি কতকাল সংযম দেখিয়ে যাবে, সে বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবারের হামলার পর ইরানের ওপর পালটা হামলার পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার সেই পরিকল্পনা কার্যকর করেনি। ইসরায়েলের কান স¤প্রচার কেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পূর্ব পরিকল্পিত পাল্টা হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নেটওয়ার্কের সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কমপক্ষে দুই রাতে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল। তবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল একাই নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। তার মতে, আত্মরক্ষার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তার দেশ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে

Update Time : ০১:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

বিদেশ : ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। জি-সেভেনও নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা না বাড়ানোর লক্ষ্যে ক‚টনৈতিক উদ্যোগও চলছে। ইসরায়েলের সংযমের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় বাড়ছে। গত শনিবার ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে ইরান এখনো পর্যন্ত পালটা হামলা থেকে রেহাই পেলেও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এড়াতে পারছে না সে দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা বুধবার ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে সে দেশের ড্রোন ও মিসাইল কোম্পানিগুলোর কার্যকলাপ চাপের মুখে পড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠী জি-সেভেনও ইরানের অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে। ইরানের হামলার নিন্দা করে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থনের অঙ্গীকার জানিয়ে ইইউ নেতারা সব পক্ষের উদ্দেশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহŸান জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, ইরানের ওপর বড় আকারে ইসরায়েলের পালটা হামলা না চালানো জরুরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের সংযমের আশা করছে। তবে বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামের মূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে আপাতত ইরানের তেল রপ্তানির পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে না পশ্চিমা দেশগুলো। সেটা করলে চীনও রুষ্ট হতে পারে। শুধু ইসরায়েলের ওপর হামলার কারণে নয়, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান যেভাবে হামলাকারী দেশ হিসেবে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে চলেছে, ইইউ তার পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে সেই প্রবণতা মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। এবার সেগুলোর আওতা বাড়িয়ে মিসাইল সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রক্সি’ শক্তিগুলোকেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আওতায় আনতে চাইছে ইইউ। তবে ইরানের শক্তিশালী রেভোলিউশনরি গার্ড কর্পস বাহিনীকে ইইউ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ আইনি জটিলতার কারণে এখনো সফল হচ্ছে না। কোনো ইইউ সদস্য রাষ্ট্র সেই বাহিনীর সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ পেলে তবেই সেটা সম্ভব হবে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন। ইসরায়েলের ওপর পালটা হামলা না চালানোর চাপ থাকলেও দেশটি কতকাল সংযম দেখিয়ে যাবে, সে বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবারের হামলার পর ইরানের ওপর পালটা হামলার পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার সেই পরিকল্পনা কার্যকর করেনি। ইসরায়েলের কান স¤প্রচার কেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পূর্ব পরিকল্পিত পাল্টা হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নেটওয়ার্কের সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কমপক্ষে দুই রাতে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল। তবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল একাই নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। তার মতে, আত্মরক্ষার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তার দেশ।