প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর শিখরে বাবর আলী
- আপডেট সময় : ০৯:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর চূড়া স্পর্শ করে ইতিহাস গড়েছেন পর্বতারোহী বাবর আলী। এর মধ্য দিয়ে আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পাঁচটি পর্বতশৃঙ্গ জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন এই বাংলাদেশি।
শুক্রবার (১ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছান তিনি। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত এই দুর্গম শৃঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই পর্বতারোহীদের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জিং গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
এটি বাবর আলীর পঞ্চম আট হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয়। এর আগে তিনি চারটি আট হাজারি চূড়ায় উঠেছেন, যা কোনো বাংলাদেশির জন্য বিরল অর্জন।
‘এক্সপিডিশন মাকালু, দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ নামে এই অভিযানের আয়োজন করে চট্টগ্রামভিত্তিক পর্বতারোহণ সংগঠন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির সভাপতি ফরহান জামান। শিখরে ওঠার সময় বাবরের সঙ্গে ছিলেন আং কামি শেরপা।
গত ৭ এপ্রিল দেশ ছেড়ে নেপালে যান বাবর। কয়েকদিনের প্রস্তুতি শেষে টুমলিংটার হয়ে সেদুয়া গ্রামে পৌঁছে ট্রেকিং শুরু করেন। ধাপে ধাপে উচ্চতা অতিক্রম করে ১৮ এপ্রিল বেস ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর শরীরকে মানিয়ে নিতে বিভিন্ন ক্যাম্পে ওঠানামা করেন।
গত ৩০ এপ্রিল আবার চূড়ান্ত আরোহন শুরু করেন তিনি। প্রথমে ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২ এবং পরদিন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩ এ ওঠেন। সেখান থেকে মধ্যরাতে শিখরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। খাড়া আরোহন শেষে ভোরে পৌঁছান মাকালুর চূড়ায়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনি এখন নিরাপদে নিচে নামার পথে রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যাম্প-২ হয়ে বেস ক্যাম্পে ফিরবেন।
বাবর আলীর পর্বতারোহণে যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে। তার আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে পাহাড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্তমানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক।
২০১৭ সালে ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে হিমালয়ের বিভিন্ন কঠিন শৃঙ্গ জয় করেন। ২০২২ সালে আমা দাবলাম জয় করে আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালে একই অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট ও লোৎসে জয় করেন। ২০২৫ সালে অন্নপূর্ণা-১ এবং পরে অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু আরোহণ করে ইতিহাস গড়েন বাবর।



















