সংবাদ শিরোনাম ::
ফকিরহাটে ঘুষ না দেওয়ায় সরকারি প্রকল্পের গরু থেকে বঞ্চিত দরিদ্র জেলে, অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
শেখ সৈয়দ আলী, ফকিরহাট : বাগেরহাটের ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত গরু (বখনা বাছুর) ঘুষের টাকা না দেওয়ায় এক দরিদ্র জেলেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিতরণকৃত ওই গরু পরে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচরণ বিশ্বাসের ছেলে তারাপদ বিশ্বাস পেশায় একজন দরিদ্র জেলে। তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত জেলে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে জেলেদের মাঝে গরু বিতরণের জন্য তার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।তারাপদ বিশ্বাসের অভিযোগ, গরু দেওয়ার কথা বলে নলধা-মৌভোগ গ্রামের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহিত বালা তার কাছ থেকে জেলে কার্ড সংগ্রহ করেন। পরে অফিস খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দরিদ্র হওয়ায় তিনি ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার নামে বরাদ্দকৃত গরু তাকে না দিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী জানান, তালিকার ৩৯ নম্বর ক্রমিকে তার নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বখনা বাছুরটি মোহিত বালার মাধ্যমে একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে সরেজমিনে সেই গরুটিও পাওয়া গেছে।
তারাপদ বিশ্বাস বলেন,
“মৎস্য অফিস থেকে আমার নামে বরাদ্দকৃত গরু কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ১০ হাজার টাকা দিতে না পারায় আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গরু বিতরণের তারিখও আমাকে জানানো হয়নি।”তার ছেলে প্রহলাদ বিশ্বাস বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু উল্টো মোহিত বালার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। শুধু আমরা নই, আরও কয়েকজন জেলের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
একই ইউনিয়নের শ্রীবাস বৈরাগী জানান,
“মোহিত বালা আমার কাছেও অফিস খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। পরে দরকষাকষি করে ৪ হাজার টাকা দিই। এরপর উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে গরু নিয়ে আসি। পরে জানতে পারি, গরুটি তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল।”
অভিযুক্ত মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“এ বিষয়ে আমি দায়ী না। মৎস্য অফিস কাকে গরু দিয়েছে বা দেয়নি, তা আমি জানি না।”
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ গরু না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“তারাপদ বিশ্বাস প্রকৃত জেলে এবং তালিকাভুক্ত উপকারভোগী। তিনি না আসায় কার্ড দেখে তার ছেলে পরিচয়দানকারী একজনকে গরু দেওয়া হয়েছিল। পরে অভিযোগ পাওয়ায় মাঠ সহায়ক কর্মী কমলেশ দাশকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে সরকারি সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
জেলা মৎস্য অফিসার রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কারো দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র জেলেদের হাতে পৌঁছাতে হলে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।























