দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে কি নেই, তা নিয়ে সরকারের দুই শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যে ভিন্ন সুর উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গি তৎপরতার অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশে জঙ্গি আছে”, তবে সেটিকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক নয়, আবার একেবারে অস্বীকার করাও ভুল।
বিষয়টি সামনে আসে এমন এক সময়ে, যখন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তায় নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এরপর বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে “জঙ্গি” শব্দটি প্রয়োগ করার মতো পরিস্থিতি নেই। তার ভাষায়, “পৃথিবীর সব দেশেই কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে, র্যাডিক্যাল ফোর্স থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন জঙ্গি তৎপরতা আছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে এই বিষয়টি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। “ফ্যাসিবাদী আমলে এসব শব্দ উচ্চারিত হতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।”
তবে একই দিন সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “দেশে জঙ্গি নেই, এটা যেমন পুরো সত্য নয়, আবার দেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে, এটাও সত্য নয়। দুটোই চরম অবস্থান।”
তার বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশে উগ্রপন্থার প্রবণতা রয়েছে এবং তা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা যদি কোনো সংকট স্বীকারই না করি, তাহলে তার চিকিৎসাও হবে না। জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। এটাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার।”
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, অতীতে জঙ্গিবাদ ইস্যু অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতার কিছু মানুষ প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
দুই পক্ষের বক্তব্যে একটি জায়গায় মিলও দেখা গেছে। দুজনই মনে করেন, অতীতে জঙ্গিবাদ প্রশ্নটি রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে তাদের অবস্থান স্পষ্টতই আলাদা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সতর্কতা এবং সরকারের ভেতর ভিন্ন বক্তব্য বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তায় সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন তারা।
সরকারি অবস্থানের এই ভিন্নতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্র সতর্ক রয়েছে এবং উগ্রবাদ মোকাবিলায় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 





















