Dhaka ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরাকের ইরানপন্থি নেতাকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৫ Time View

আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠীর নেতা হাশিম ফিনইয়ান রহিম আল-সারাজি ওরফে আবু ওয়ালা আল-ওয়ায়েলিকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র তাকে কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার (কেএসএস) মহাসচিব হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সমর্থিত এবং আদর্শগতভাবে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। গত এক দশকে ইরাকি মিলিশিয়ারা মার্কিন সেনা ও কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে বহু হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে এসব গোষ্ঠী হামলা আরও বাড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ১ হাজারের বেশি হামলার অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেএসএস ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা ও কর্মীদের ওপর হামলার জন্য দায়ী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়ায়েলির বিষয়ে তথ্যদাতারা ‘পুনর্বাসন সুবিধা এবং আর্থিক পুরস্কার’ পাবেন। কাউন্টার এঙ্ট্রিমিজম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ায়েলি আগে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়ে বলেছিলেন, কেএসএস ওই গোষ্ঠীর একটি অংশ। ইরান পক্ষে কাজ করা এবং ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ওয়ায়েলিকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
কে এই আবু ওয়ালা আল-ওয়ায়েলি
কেএসএস-এ যোগ দেয়ার আগে কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন ওয়ায়েলি। কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকে সক্রিয় এটি ‘মার্কিনবিরোধী’ শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী। তারা সিরিয়াতেও কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্য হিসেবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কারণে ওয়ায়েলিকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে ২০১০ সালে তিনি মুক্তি পান। ২০১০-এর দশকের শুরুতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হলে কাতাইব হিজবুল্লাহর আবু হুসেইন ও আবু ফাদাক শাখার সদস্যরা মিলে কেএসএস গঠন করে। ওয়ায়েলিও তখন কেএসএস-এ যোগ দেন। গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন কমিটির (পিএমসি) ১৪তম ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ইরাকের ইরানপন্থি নেতাকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

Update Time : ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আনন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠীর নেতা হাশিম ফিনইয়ান রহিম আল-সারাজি ওরফে আবু ওয়ালা আল-ওয়ায়েলিকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র তাকে কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার (কেএসএস) মহাসচিব হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সমর্থিত এবং আদর্শগতভাবে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। গত এক দশকে ইরাকি মিলিশিয়ারা মার্কিন সেনা ও কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে বহু হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে এসব গোষ্ঠী হামলা আরও বাড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ১ হাজারের বেশি হামলার অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেএসএস ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা ও কর্মীদের ওপর হামলার জন্য দায়ী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়ায়েলির বিষয়ে তথ্যদাতারা ‘পুনর্বাসন সুবিধা এবং আর্থিক পুরস্কার’ পাবেন। কাউন্টার এঙ্ট্রিমিজম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ায়েলি আগে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়ে বলেছিলেন, কেএসএস ওই গোষ্ঠীর একটি অংশ। ইরান পক্ষে কাজ করা এবং ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ওয়ায়েলিকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
কে এই আবু ওয়ালা আল-ওয়ায়েলি
কেএসএস-এ যোগ দেয়ার আগে কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন ওয়ায়েলি। কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকে সক্রিয় এটি ‘মার্কিনবিরোধী’ শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী। তারা সিরিয়াতেও কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাতাইব হিজবুল্লাহর সদস্য হিসেবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কারণে ওয়ায়েলিকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে ২০১০ সালে তিনি মুক্তি পান। ২০১০-এর দশকের শুরুতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হলে কাতাইব হিজবুল্লাহর আবু হুসেইন ও আবু ফাদাক শাখার সদস্যরা মিলে কেএসএস গঠন করে। ওয়ায়েলিও তখন কেএসএস-এ যোগ দেন। গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন কমিটির (পিএমসি) ১৪তম ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত।