Dhaka ০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: এক যুগ পার হলেও শেষ হয়নি বিচার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ Time View

একদিনে বদলে গিয়েছিল হাজারো জীবনের স্বপ্নযাত্রা। নিমিষেই শেষ বহুদূর ছুঁটে চলার ইচ্ছে-আকাঙ্কা।  ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সাভারের বুকে আটতলা এক ভবন ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু কংক্রিট নয়, চাপা পড়ে যায় স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর অসংখ্য পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই ট্র্যাজেডির নাম, রানা প্লাজা ধস। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ধ্বংসস্তূপের ধুলো আজও ভুক্তভোগীদের অশ্রু ঝরাচ্ছে, মেলেনি বিচার।

রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেও গার্মেন্টস শিল্পে এত মারাত্মক দুর্ঘটনা আর হয়নি। এ ঘটনায় প্রাণ যায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিকের, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ।

২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত।

রানা প্লাজা ট্যাজেডির বেঁচে ফেরাদের মধ্যে একজন সাদ্দাম হোসেন। কাজ শুরু করার মাত্র ২০ দিনের মাথায় হারান একটি হাত। বর্তমানে একটি হাত নিয়ে চলছে তার জীবনযুদ্ধ। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবো কিনা তাও জানি না। আমরা চাই আমরাদের ক্ষতিপূরণ আর ন্যায় বিচার।’

মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া শিলা এখন কর্মক্ষম নন। সংসার চালানো, মেয়ের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ,সব মিলিয়ে অসহায় জীবন। অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, হয়নি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন। এছাড়া অন্য কোথাও চাকরির দরখাস্ত দিলে রানা প্লাজার শ্রমিক শোনা মাত্র দেয়া হয়না চাকরি । শীলা বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছি।’

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বিভিন্ন পক্ষ অর্থ আত্মসাৎ করার কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা এখনো বঞ্চিত। এদিকে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে রানা প্লাজার পরিত্যক্ত যায়গায় বহুতল কমার্শিয়াল স্পেস ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের কথা জানালেন স্থানীয় প্রশাসন।

রানা প্লাজা সার্ভাইভাল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ‘একজীবনে আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ। স্থায়ী পুনর্বাসন ও ন্যায় বিচার।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাভার ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রানাপ্লাজায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য সরকার রানা প্লাজার আগের স্থানে একটি মার্কেট করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: এক যুগ পার হলেও শেষ হয়নি বিচার

Update Time : ১০:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

একদিনে বদলে গিয়েছিল হাজারো জীবনের স্বপ্নযাত্রা। নিমিষেই শেষ বহুদূর ছুঁটে চলার ইচ্ছে-আকাঙ্কা।  ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সাভারের বুকে আটতলা এক ভবন ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু কংক্রিট নয়, চাপা পড়ে যায় স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর অসংখ্য পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই ট্র্যাজেডির নাম, রানা প্লাজা ধস। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই ধ্বংসস্তূপের ধুলো আজও ভুক্তভোগীদের অশ্রু ঝরাচ্ছে, মেলেনি বিচার।

রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেও গার্মেন্টস শিল্পে এত মারাত্মক দুর্ঘটনা আর হয়নি। এ ঘটনায় প্রাণ যায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিকের, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ।

২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত।

রানা প্লাজা ট্যাজেডির বেঁচে ফেরাদের মধ্যে একজন সাদ্দাম হোসেন। কাজ শুরু করার মাত্র ২০ দিনের মাথায় হারান একটি হাত। বর্তমানে একটি হাত নিয়ে চলছে তার জীবনযুদ্ধ। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবো কিনা তাও জানি না। আমরা চাই আমরাদের ক্ষতিপূরণ আর ন্যায় বিচার।’

মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া শিলা এখন কর্মক্ষম নন। সংসার চালানো, মেয়ের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ,সব মিলিয়ে অসহায় জীবন। অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, হয়নি তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন। এছাড়া অন্য কোথাও চাকরির দরখাস্ত দিলে রানা প্লাজার শ্রমিক শোনা মাত্র দেয়া হয়না চাকরি । শীলা বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছি।’

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বিভিন্ন পক্ষ অর্থ আত্মসাৎ করার কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা এখনো বঞ্চিত। এদিকে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে রানা প্লাজার পরিত্যক্ত যায়গায় বহুতল কমার্শিয়াল স্পেস ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের কথা জানালেন স্থানীয় প্রশাসন।

রানা প্লাজা সার্ভাইভাল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ‘একজীবনে আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ। স্থায়ী পুনর্বাসন ও ন্যায় বিচার।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাভার ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রানাপ্লাজায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য সরকার রানা প্লাজার আগের স্থানে একটি মার্কেট করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’