সর্বশেষ :
৫ রান পেনাল্টির পর মুস্তাফিজ-পারভেজদের হার দি‌ল্লি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুতই হামের টিকা আসবে, আসার পরপরই দেয়া শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঈদ ঘিরে ১৫ দিনে সড়কে ৩৫১ জনের মৃত্যু, আহত হাজারের বেশি মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্যা সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আশা—অসহায় আত্তাব গাজীর পাশে মানবিক সহায়তা বিএনপি নেতার জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মোরেলগঞ্জে জামায়াতের ছত্রছায়ায় বিএনপি নেতা কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ বাগেরহাটে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি’র বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে “নাগ‌রি‌কের কথা” নাটক প্রদর্শন কর‌লো নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই,অগ্নিদগ্ধে নারী শিশুসহ আহত ৩
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ঈদ ঘিরে ১৫ দিনে সড়কে ৩৫১ জনের মৃত্যু, আহত হাজারের বেশি

প্রতিনিধি: / ৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মানুষের যাতায়াতে এবারও নেমেছে কালো অধ্যায়। ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার মাত্র ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের প্রাণহানির সাথে ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার আসলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের মাফিয়া স্টাইল নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। পরিবহন মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।’

দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ:

১. সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার অবাধ চলাচল।

২. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।

৩. উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি।

৪. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের ট্রাক, পিকআপ ও ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় মহাসড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।


এই বিভাগের আরো খবর