Dhaka ১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার চিপের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন মাস্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৩৫ Time View

বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক। এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেরাফ্যাব’। এই প্রকল্পকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল উদ্যোগটি বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করবে টেসলা, স্পেসএঙ্ এবং এঙ্এআই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে টেসলার গিগা টেঙ্াস কারখানার কাছেই স্থাপন করা হবে এই টেরাফ্যাব। মাস্কের ভাবনায়, এই কারখানাটি প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ ওয়েফার উৎপাদনে সক্ষম হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি। তুলনামূলকভাবে, বর্তমানে শীর্ষ চিপ নির্মাতা টিএসএমসি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ২ ন্যানোমিটার ওয়েফার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই হিসেবে টেরাফ্যাবের সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান শিল্পমানকে বহু গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য। মাস্কের মতে, এই কারখানা থেকে বছরে ১০০ থেকে ২০০ বিলিয়ন পর্যন্ত এআই ও মেমোরি চিপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হবে টেসলার নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্বয়ংক্রিয় রোবট পরিচালনায়। নিজস্ব চিপ উৎপাদনে যাওয়ার পেছনে একটি বাস্তব কারণও তুলে ধরেছেন তিনি। স্যামসাং, টিএসএমসি ও মাইক্রনের মতো বর্তমান সরবরাহকারীরা উৎপাদন বাড়ালেও, তা টেসলার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন মাস্ক। তাই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাকেই তিনি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণ অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। টিএসএমসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করা সহজ নয়। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। সব মিলিয়ে, টেরাফ্যাব কেবল একটি কারখানা নয়; বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের শিল্প কাঠামো গঠনে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

এবার চিপের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন মাস্ক

Update Time : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক। এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেরাফ্যাব’। এই প্রকল্পকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল উদ্যোগটি বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করবে টেসলা, স্পেসএঙ্ এবং এঙ্এআই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে টেসলার গিগা টেঙ্াস কারখানার কাছেই স্থাপন করা হবে এই টেরাফ্যাব। মাস্কের ভাবনায়, এই কারখানাটি প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ ওয়েফার উৎপাদনে সক্ষম হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি। তুলনামূলকভাবে, বর্তমানে শীর্ষ চিপ নির্মাতা টিএসএমসি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ২ ন্যানোমিটার ওয়েফার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই হিসেবে টেরাফ্যাবের সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান শিল্পমানকে বহু গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আরও বড় লক্ষ্য। মাস্কের মতে, এই কারখানা থেকে বছরে ১০০ থেকে ২০০ বিলিয়ন পর্যন্ত এআই ও মেমোরি চিপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হবে টেসলার নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্বয়ংক্রিয় রোবট পরিচালনায়। নিজস্ব চিপ উৎপাদনে যাওয়ার পেছনে একটি বাস্তব কারণও তুলে ধরেছেন তিনি। স্যামসাং, টিএসএমসি ও মাইক্রনের মতো বর্তমান সরবরাহকারীরা উৎপাদন বাড়ালেও, তা টেসলার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন মাস্ক। তাই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাকেই তিনি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণ অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। টিএসএমসি-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ের দক্ষতা অর্জন করা সহজ নয়। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। সব মিলিয়ে, টেরাফ্যাব কেবল একটি কারখানা নয়; বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের শিল্প কাঠামো গঠনে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।