বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ, ছবি তোলা কিংবা বিনোদন; সবকিছুর জন্যই ফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু বাইরে থাকাকালে হঠাৎ ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিপাকে পড়তে হয় অনেককে। এ সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক। পাওয়ার ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ফোন, ট্যাবলেট এমনকি ল্যাপটপের চার্জ ফুরিয়ে গেলেও কাছাকাছি বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন হয় না। তবে অনলাইনে খোঁজ করলে দেখা যায়, ২০ ডলারের (২,৪৪৬ টাকা) কম দামের সাধারণ মডেল থেকে শুরু করে ১০০ ডলারের (১২,২৩০ টাকা) বেশি দামের নানা ধরনের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে। এত বিকল্পের ভিড়ে কোনটি ভালো হবে, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করে সেরা পোর্টেবল চার্জারগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কনজিউমার রিপোর্টস। তারা চার্জিং ক্ষমতা, ব্যাটারি ধারণক্ষমতা, বহনযোগ্যতা এবং চার্জ হতে কত সময় লাগে; এসব বিষয় যাচাই করে সেরা কয়েকটি মডেল নির্বাচন করেছে। জনপ্রিয় অনেক ব্র্যান্ডের মডেল পরীক্ষার পর তাদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি পাওয়ার ব্যাংক স্থান পেয়েছে। নিচে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-
অহশবৎ চৎরসব চড়বিৎ ইধহশ ২৭,৬৫০ সঅয ২৫০ড
এই পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারি ধারণক্ষমতা ২৭ হাজার ৬৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা (সঅয)। সাধারণ একটি স্মার্টফোন সম্পূর্ণ চার্জ দিতে এটি চার থেকে ছয়বার পর্যন্ত সক্ষম। এমনকি একটি ল্যাপটপও এক-দুবার চার্জ দেওয়া যায়। এর শক্তি ৯৯.৫৪ ওয়াট-ঘণ্টা (ডয), যা বিমান ভ্রমণে বহনের জন্য নির্ধারিত ১০০ ডয সীমার মধ্যেই পড়ে। ফলে এটি বিমানযাত্রায় বহন করতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এই মডেলের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এর ২৫০ ওয়াট পর্যন্ত আউটপুট ক্ষমতা। দুটি পোর্ট একসঙ্গে ব্যবহার করে একটি ইউএসবি-সি পোর্ট দিয়ে ১৪০ ওয়াটের ল্যাপটপ চার্জ করা যায়, অন্য পোর্ট দিয়ে একই সময়ে স্মার্টফোন দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি দিয়ে ১৬-ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো মাত্র আধা ঘণ্টার কম সময়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়। পাওয়ার ব্যাংকটি দ্রুত চার্জও হয়। দুটি ইউএসবি-সি কেবল ও শক্তিশালী চার্জার ব্যবহার করলে প্রায় ৪০ মিনিটে শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হয়ে যায়। এতে একটি ডিসপ্লে স্ক্রিন রয়েছে, যেখানে চার্জের অবস্থা দেখা যায়। এমনকি একটি অ্যাপের মাধ্যমে হারিয়ে গেলে সেটি খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। তবে এটি তুলনামূলক ভারী, ওজন প্রায় ৬৬৫ গ্রাম। দামও বেশ বেশি, প্রায় ২২ হাজার টাকা।
গড়ঢ়যরব চড়বিৎংঃধঃরড়হ চৎড় অঈ ২৭,০০০ সঅয ১০০ড
একাধিক ফোন, ট্যাবলেট কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন- এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কার্যকর একটি পাওয়ার ব্যাংক। কারণ এতে রয়েছে একটি এসি (অঈ) পোর্ট, যা সর্বোচ্চ ১০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। অর্থাৎ, কোনো ডিভাইস যদি ইউএসবি চার্জিং সমর্থন না করে, তবুও সাধারণ ওয়াল প্লাগ ব্যবহার করে সেটি চার্জ দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া এতে রয়েছে দুটি ইউএসবি-সি পোর্ট (প্রতি পোর্ট ৬০ ওয়াট) এবং একটি ইউএসবি-এ পোর্ট (২০ ওয়াট)। সব মিলিয়ে এটি মোট ১৪০ ওয়াট পর্যন্ত আউটপুট দিতে পারে। এর ব্যাটারি ধারণক্ষমতা ২৭ হাজার সঅয। নির্মাতাদের দাবি, এটি একটি আইফোন ১৫ প্রোকে প্রায় পাঁচবার পূর্ণ চার্জ দিতে পারে। দ্রুত চার্জিং সুবিধাও রয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিটে ফোন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হয়ে যায়। তবে এর দাম তুলনামূলক বেশি, প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা। ওজনও বেশ ভারী, প্রায় এক কিলোগ্রামের কাছাকাছি। তবে সহজে বহনের জন্য এতে একটি স্ট্র্যাপ দেওয়া আছে।
অহশবৎ ঘধহড় চড়ৎঃধনষব ঈযধৎমবৎ ২২.৫ড ৫,০০০ সঅয
যারা হালকা ও ছোট আকারের পাওয়ার ব্যাংক পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি উপযোগী। এর ওজন মাত্র ১০০ গ্রাম এবং সহজেই হাতের তালুতে ধরে রাখা যায়। এর ব্যাটারি ধারণক্ষমতা ৫ হাজার সঅয, যা একটি আইফোন ১৫-কে প্রায় ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দিতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে সারাদিন ফোন চালু রাখার জন্য এটি যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে। এই মডেলের বিশেষ সুবিধা হলো, এতে বিল্ট-ইন ইউএসবি-সি কানেক্টর রয়েছে। ফলে আলাদা কেবল ছাড়াই সরাসরি ফোনে সংযুক্ত করে চার্জ দেওয়া যায়। তবে খুব মোটা ফোন কভার থাকলে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া এতে আরেকটি ইউএসবি-সি পোর্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যায়। এমনকি ‘পাস-থ্রু চার্জিং’ সুবিধা থাকায় একই সময়ে ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক দুটোই চার্জ করা যায়। এর দাম তুলনামূলক কম, প্রায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
ওহরঁ ই৬১ চড়ৎঃধনষব ঈযধৎমবৎ ২২.৫ড ১০,০০০ সঅয
১০ হাজার সঅয ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক সাধারণত আকার ও চার্জিং ক্ষমতার মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি করে। সেই বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছে এই মডেলটি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ১০ হাজার সঅয ক্ষমতার সবচেয়ে ছোট পাওয়ার ব্যাংকগুলোর একটি। এর মাপ ৪.২ দ্ধ ২.৬ দ্ধ ০.৯ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৯৬ গ্রাম। এতে একটি ইউএসবি-সি ও দুটি ইউএসবি-এ পোর্ট রয়েছে, ফলে একসঙ্গে তিনটি ডিভাইস চার্জ দেওয়া সম্ভব। এর ব্যাটারি ক্ষমতা দিয়ে একটি স্মার্টফোন প্রায় দুইবার চার্জ দেওয়া যায়। ২২.৫ ওয়াট আউটপুটের কারণে একটি আইফোন প্রায় ৩০ মিনিটে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে পারে। এতে একটি বিল্ট-ইন ফোন স্ট্যান্ডও রয়েছে, যার সাহায্যে চার্জ দিতে দিতে ভিডিও দেখা বা সিনেমা উপভোগ করা যায়। এর দামও সাড়ে ৩ হাজারের মতো।
গড়ঢ়যরব চৎরসব ২০ চড়ৎঃধনষব চড়বিৎ ইধহশ ২০,০০০ সঅয ১৮ড
দীর্ঘ ভ্রমণ বা যাত্রাপথে ফোন, ট্যাবলেট বা গেমিং ডিভাইস ব্যবহার করলে বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে ২০ হাজার সঅয ক্ষমতার এই মডেলটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি একটি ফোন প্রায় চারবার পূর্ণ চার্জ দিতে সক্ষম। ফলে দীর্ঘ ফ্লাইট বা ট্রেন ভ্রমণেও ডিভাইস চালু রাখা সহজ হয়। এতে দুটি ইউএসবি-এ এবং একটি ইউএসবি-সি পোর্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে একই সময়ে একাধিক ডিভাইস চার্জ দেওয়া যায়। এর ওজন প্রায় ১.১৭ পাউন্ড এবং নকশা তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় ব্যাগে বহন করাও সহজ। অতিরিক্ত জটিল ফিচার না থাকলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। এর দাম প্রায় ৭ হাজার টাকা।